গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার সর্বসাম্প্রতিক চেষ্টায় ইসরায়েল সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। গত বছর অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলে এটি ব্লিঙ্কেনের নবম সফর। গাজায় যুদ্ধবিরতি করা নিয়ে ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবধান কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি সংশোধিত প্রস্তাব উপস্থাপন করার কয়েক দিন পর ব্লিঙ্কেন এই সফরে গেলেন।
প্রস্তাবটি নিয়ে গত সপ্তাহে কাতারের দোহায় আলোচনা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল উভয়ই একটি চুক্তি হওয়া নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে। তবে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস বলছে, তারা এ বিষয়ে অগ্রগতি হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী নয়।
চুক্তিতে মতভেদ থাকা বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে আছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি। হামাস সেনা সরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ইসরায়েল সেটি করবে কি না প্রশ্ন আছে তা নিয়ে।
তবে ব্লিঙ্কেন ইসরায়েল সফরে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানো যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন যুদ্ধবিরতি চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছি।’
চুক্তিটি চূড়ান্ত করার চেষ্টায় বাইডেন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেনকে ইসরায়েলে পাঠিয়েছেন বলেও জানিয়েছিলেন।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার মন্ত্রিসভার সঙ্গে কথা বলার সময় হামাসকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় একগুঁয়ে বলে অভিযুক্ত করেন এবং ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠীর ওপর আরও হামলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হামাস, এই মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের অবস্থানে অনড়। এমনকি দোহায় আলোচনায় তারা একজন প্রতিনিধিও পাঠায়নি। তাই, হামাস এবং (ইয়াহিয়া) সিনওয়ারকে চাপ দেওয়া উচিত, ইসরায়েল সরকারের দিকে নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মূল রূপরেখা একই রকম রয়েছে। এটি একটি তিনপর্যায়ের প্রক্রিয়া যেখানে ছয় সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বন্ধ থাকবে।
গত বছর ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলে ঢুকে পড়ে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার দিন থেকেই গাজায় যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরায়েল। তখন থেকে এখন পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহত হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ।
এর মধ্যে শুধু গত বছর নভেম্বরে একবার এক সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ২৪০ ফিলিস্তিনি বন্দি ইসরায়েলের জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার বিনিময়ে হামাস ১০৫ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল। এখনো হামাসের হাতে ১১১ জিম্মি আছে বলে দাবি ইসরায়েলের। যাদের ৩৯ জনই মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বসাম্প্রতিক এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর জানায়, তারা একটি যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যা হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে ব্যবধান কমাতে সহায়ক।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে দোহায় সর্বশেষ আলোচনার পর মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, গত দুদিনের আলোচনা গঠনমূলক এবং ইতিবাচক পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে।
এদিকে গতকাল ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, গাজায় একটি নতুন ইসরায়েলি হামলায় একজন নারী এবং তার ৬ সন্তানসহ ২৮ জন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার বেশির ভাগই যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং একটি মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা দুর্ভিক্ষ এবং পোলিও ও অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।