দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেতুর ইজারা দখল, মুক্ত করল সেনাবাহিনী

দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাঁচবাগ ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত খুরশিদ মহল সেতুর টোল আদায়কালে ইজারাদারের লোকজনকে ভয়-ভীতি ও মারধর করে দখলে নেয় স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ। পরে সেনাবাহিনী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে দখলমুক্ত করে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) ফের দখল নিতে পারে এমন আশংকায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানান।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার পাগলা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আল ফাতাহ খান সমর্থিত খলিল খান, রাসেল ও সাদ্দামের নেতৃত্বে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে খুরশিদ মহল সেতুর ইজারাদার মজনু মিয়ার লোকজনকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক টোলঘর দখল নেন। এ সময় সেতু এলাকায় যানবাহন ও যাতায়াতকারী লোকজনের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা সদর থেকে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দখলদারদের হঠিয়ে দিলে উপজেলা প্রশাসন সেতুর টোল আদায় নিয়ন্ত্রণ নেন।

মজনু মিয়ার নির্দেশে টোল আদায়কারী আসলাম উদ্দিন বলেন, ইজারাদারের অনুমতি নিয়ে সরকার নির্ধারিত টোল আদায় করছি। বৃহস্পতিবার দুপুরে অ্যাডভোকেট ফাতাহ খানের শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেতু এলাকায় কিছু নিরীহ লোকজনকে মারধর করে ত্রাস সৃষ্টি করে।

বিএনপি নেতা ফাতাহ খানে কর্মী অভিযুক্ত খলিল খানের দাবি, গত ১৫ দিন আগে খুরশিদমহল সেতুর ইজারাদার মজনু মিয়া ও তার লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তার দাবি এই সুযোগে স্থানীয় বিএনপির কিছু লোক আওয়ামী লীগের নেতা ইজারাদার মজনু মিয়ার সঙ্গে যোগসাজশে টোল আদায় করছিল।

অ্যাডভোকেট ফাতাহ খান বলেন, সেতুর ইজারাদার মজনু মিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা। তারা দলীয় প্রভাব দেখিয়ে বালুমহাল, সেতুসহ পরিবহন চাঁদা আদায়ের ইজারা নেন। জানতে পারলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের হাতে নির্যাতনের শিকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উচ্ছেদ করতে গিয়েছে।

এ ব্যাপারে পাগলা থানার ওসি খায়রুল বাশার বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবাইয়া ইয়াসমিন বলেন, টোল আদায়কালে লোকজন সেখানে গেলে মারামারি বন্ধ করতে সেনাবাহিনী পাঠানো হয়। পরে সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সকলকে সরিয়ে দেন। আপাতত সেতুর টোল আদায় বন্ধ রয়েছে।