সকালের নাশতা না খেলে ওজন কমানো যায়। এটা একেবারেই ভুল ধারণা। কারণ, সকালের দিকে শরীরের বিপাকক্রিয়ার হার বেশি থাকে। ফলে যা খাওয়া হয়, তা হজম হয়ে যায়। সকালের নাশতা শরীর গঠন ও রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। অনেক সময়েই সকালে খাওয়ার নিয়মে গোলমালের কারণেই দেখা দিতে পারে বহু সমস্যা।
খালি পেটে কফি : সকালে খালি পেটে কফি পান কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কারণ সকালে এই হরমোনটি সক্রিয় থাকার চেষ্টা করে। হরমোনের ভারসাম্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। রক্তচাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে। এ ছাড়া গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। খালি পেটে কফি পান না করে সকালের নাশতার পরে কফি পান করুন।
ফল বা ফলের রস : অনেকেই সকালে এক গ্লাস জুস বা ফলের রস খেয়ে সকালের নাশতা শেষ করেন। এটা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কারণ খালি পেটে ফলের রস খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। তা ছাড়া অ্যাসিডিটির সমস্যাও ও ওজন বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ফলের রসের পরিবর্তে একটি ফল খাওয়া উচিত। অনেকেই নাশতার আগেই সকালে খালি পেটে কলা খান। কিন্তু এটি খালি পেটে একদমই খাওয়া উচিত নয়। এই ফলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম থাকায় এটি রক্তে দুটি খনিজের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত মাংস : সকালে খালি পেটে প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে পাকস্থলীর ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো রোগের আশঙ্কাও থেকে যায়। যেকোনো সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
মিষ্টি দই : টক দই স্বাস্থ্যকর হলেও মিষ্টি দই একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। প্রতিদিন যদি আপনি সকালের নাশতায় মিষ্টি দই খান তাহলে ওজন বৃদ্ধি বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়বে।
সাদা রুটি : অনেকেই সকালের নাশতায় জ্যাম বা অন্যান্য স্প্রেড দিয়ে সাদা রুটি খান। সাদা রুটি একটি প্রক্রিয়াজাত খাবার। যদিও এটি দ্রুত এবং সহজে হজম হতে পারে, তবে এর পুষ্টিগুণ কম। সাদা রুটিতে নিম্নমানের কার্বোহাইড্রেট এবং চিনি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।