প্রকল্পটির মেয়াদ দেড় বছর। এর মধ্যে প্রায় ১৪ মাস চলে গেলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। বাকি ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে ঠিকাদারের হাতে সময় রয়েছে মাত্র চার মাস। এ কাজ করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৯৬ কোটি টাকার প্রকল্পের ২৮ কোটি টাকার বিল তুলে নিয়েছে। বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে আর্থিক অগ্রগতি ২৯ শতাংশ। এমন বেহাল প্রকল্পটি হলো খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) নতুন বিপণিবিতান নির্মাণ প্রকল্প।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ করার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি না থাকায় এ সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এতে রিভাইজড (সংশোধিত) প্রকল্পে ব্যয় বাড়বে। দুর্নীতি করার আরও সুযোগ তৈরি হবে।’ এ ছাড়া কাজে অগ্রগতি এত কম থাকার পরও এত টাকা বিল পরিশোধ করা অযৌক্তিক বলে মনে করেন তিনি।
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, ষাটের দশকে নির্মাণ করা হয় খুলনা নিউমার্কেট। কিন্তু মার্কেট ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। এ কারণে মার্কেটটির পাশেই ১ দশমিক ৭ একর জমিতে ‘কেডিএ বিপণিবিতান’ তৈরি করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কেডিএ। দুটি বেজমেন্টসহ ১০তলা ফাউন্ডেশনের ভবন হবে পাঁচতলা। মার্কেটে ৩০০ দোকানঘর থাকবে। কেডিএর নিজস্ব অর্থায়নে ৯৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা চুক্তিমূলে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড।
প্রকল্পের তথ্য অনুয়ায়ী, প্রকল্পের কাজ শুরু হয় গত বছরের ১৯ জুন, শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ম্যানেজার এমডি ওয়াহিদ বলেন, পাইলিং করতে পর্যাপ্ত জায়গা দরকার। কিন্তু এখানে সেই পরিমাণ জায়গা নেই। এ ছাড়া চলতি বর্ষায় মাটি কাটা যাচ্ছে না। এসব কারণে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পাইলিং হবে ২ হাজার ৪০০ ফুট। সেখানে ২ হাজার ২০০ ফুট পাইলিং শেষ হয়েছে। অন্য কাজ এখনো শুরু হয়নি। এ ছাড়া প্রকল্পে আরও কিছু নতুন কাজ যুক্ত হচ্ছে। ফলে চলতি মেয়াদে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। মেয়াদ ও ব্যয় আবার বাড়াতে হবে।
তবে কেডিএ বিপণিবিতান নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সংস্থার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিএম মাসুদুর রহমান বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগে মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করা হবে। তবে কাজে অগ্রগতি কম থাকার পরও কেন এত বেশি বিল পরিশোধ করা হলো, সে ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেননি তিনি।