কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতি বৃষ্টি খাতুনের (২৫) মৃত্যুর অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে নিহতের বাবা সাইফুল শেখ বাদী হয়ে নোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বদর উদ্দিনের নামে মামলা দায়ের করেন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মো. আকিবুল ইসলাম জানান, ‘নিহতের বাবা বাদী হয়ে ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। আসামি গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।’
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, চার দিনের ব্যবধানে নোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দুইজন প্রসূতি নারীর মৃত্যু হয়। অস্ত্রপাচারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে যদুবয়রা ইউনিয়নের রিপন শেখের স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (২৫) এবং নন্দলালপুর ইউনিয়নের আব্দুর রশিদের মেয়ে মর্জিনা খাতুন (২৭) চিকিৎসকের অবহেলায় অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে নোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘেরাও করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নানান অসংগতি পাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লিনিকটিকে সিলগালা করা হয়।
বৃষ্টির বাবা সাইফুল শেখ বলেন, ‘ভূয়া ডাক্তার দিয়ে ক্লিনিক মালিক আমার মেয়েকে সিজার করিয়েছে। সিজারের সময় একাধিক নাড়ি কেটে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠ বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছি।’
নিহত মর্জিনা খাতুনের স্বামী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘নোভা ক্লিনিকে সিজারের সময় আমার স্ত্রীর নাড়ি কেটে যায়। সেজন্য অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।’
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. মো. আকুল উদ্দিন জানান, ‘মাত্র চারদিনের ব্যবধানে নোভা ক্লিনিকে দুইজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, ‘অল্প সময়ে দুজনের মৃত্যর অভিযোগ এবং নানান অসংগতি থাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লিনিকটিকে সিলগালা করা হয়েছে।’