আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন না রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। স্থানীয় সময় শুক্রবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘদিন ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতি করে আসা কেনেডি জুনিয়র জানিয়ে দিয়েছেনবিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন থাকবে তার।
কেনেডি জুনিয়রের এই সিদ্ধান্ত পুরো যুক্তরাষ্ট্রকেই হতবাক করে দিয়েছে। তার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন অনেকে। তার বোন কেরি কেনেডি তো ভাইকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়েছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, ৭০ বছর বয়সী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের রাজনৈতিক জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ডেমোক্রেটিক পার্টিতে। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কেনেডি পরিবারের সদস্য তিনি। গত শুক্রবার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনে আমার জয়লাভের কোনো বাস্তবসম্মত উপায় আছে বলে আমি আর মনে করি না।
কমলা হ্যারিসকে ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ায় দলটির সমালোচনা করেন রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। তার মতে, প্রার্থিতার জন্য দলের প্রাইমারিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়নি কমলাকে। দলের হাল ধরেছেন এমন কারও জন্য এটা নিন্দনীয়। এ ছাড়া সাবেক দলের প্রতি নানা অসন্তোষের কথা জানিয়ে বলেন, এসব কারণেই আমি ট্রাম্পকে সমর্থন দেব।
রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এমন সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন, যখন এক দিন আগেই ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে কমলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের প্রার্থী করা হয়েছে। বাইডেনকে সরিয়ে কমলাকে প্রার্থী করায় বেশ চনমনে রয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবির। এ ছাড়া নানা জরিপে দেখা গেছে ট্রাম্পের চেয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন কমলা।
এদিকে রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়ায় চটেছেন তার বোন কেরি কেনেডি। এক্স হ্যান্ডলে এই মানবাধিকারকর্মী লিখেছেন, আমাদের ভাই ববি (কেনেডি জুনিয়র) আজ ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আমাদের বাবা ও পরিবারের আদর্শের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। এর মধ্য দিয়ে একটি বেদনাদায়ক গল্প বেদনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো।
এদিকে এ ঘটনাকে অভূতপূর্ব ও বুদ্ধিমত্তার কাজ বলে কেনেডি জুনিয়রকে গ্লেনডেলের সমাবেশ মঞ্চে স্বাগত জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার (কেনেডি) সমর্থন লাখ লাখ আমেরিকানকে অনুপ্রাণিত করবে এবং এই দেশে দীর্ঘকাল ধরে উপেক্ষা করা হয়েছে এমন সমস্যাগুলোকে সামনে আনবে।
কেনেডি জুনিয়রকে স্বাগত জানানোর আগে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কেনেডি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত সব নথি প্রকাশ করবেন।
আর স্বামীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন কেনেডি জুনিয়রের স্ত্রী এইচবিও-এর সাবেক তারকা চেরিল হাইন্স। তবে ট্রাম্পকে সমর্থনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র হলেন হত্যাকাণ্ডের শিকার মার্কিন সিনেটর রবার্ট এফ কেনেডির ছেলে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ভাতিজা। ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা পেতে লড়াইয়ে ছিলেন তিনি। সেখানে ব্যর্থ হয়ে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।