রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প

দ্বিতীয় ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল সরবরাহ সম্পন্ন

পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় একটি মালামাল ‘ট্রান্সপোর্ট লক’ সরবরাহ করা হয়েছে। এটি ইউনিটের জ¦ালানি হ্যান্ডেলিং ব্যবস্থার একটি অংশ। খুব শিগগির রিয়্যাক্টর ভবনে এর স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

রিয়্যাক্টর কম্পার্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ এই ইক্যুইপমেন্ট সিলিন্ডার আকৃতির, যার ওজন ২৩৫ টন, দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৭ মিটার এবং ব্যাস ১০ মিটার। এটির অন্যতম একটি কাজ হলো কন্টেইনমেন্ট থেকে তেজস্ক্রিয় বস্তুর নির্গমন প্রতিরোধ নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে অগ্নি প্রতিরোধ করা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপারেশন চলাকালে বিভিন্ন মালামাল মেরামতের জন্য রিয়্যাক্টর প্ল্যান্টের মেইনটেন্যান্স লেভেলে পরিবহন করা ছাড়াও নতুন জ¦ালানি লোড এবং ব্যবহৃত জ¦ালানি আনলোডের ক্ষেত্রে ইক্যুইপমেন্টটির প্রয়োজন হয়।

এমতাবস্তায় এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট (বাংলাদেশ প্রকল্প) আলেক্সি দেইরী জানান, ‘রূপপুর এনপিপি’র দুটি ইউনিটের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেমন ইক্যুইপমেন্ট সরবরাহ ও ইনস্টলেশন, স্টার্টআপ এবং অ্যাডজাস্টমেন্টের কাজ স্বাভাবিক গতিতেই এগিয়ে চলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রসাটম বাংলাদেশের প্রতি তার অঙ্গীকার যথাযথভাবে পূরণ করছে এবং দেশের জনগণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মঙ্গলের স্বার্থে নিজস্ব প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তার গ্যারান্টি প্রদান করছে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। দুই ইউনিট বিশিষ্ট কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটটি স্টার্টআপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বাধুনিক রাশিয়ার ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর ১ হাজার ২০০ রিয়্যাক্টর, যা সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর। তবে প্রয়োজনে তা আরও ২০ বছর বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। দেশের নিরবচ্ছিন্ন মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে এবং বেইজ লোড বজায় রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পটির জেনারেল কনট্রাক্টর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ।