সাবেক মন্ত্রী দস্তগীরসহ ৭ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু

সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং তার স্ত্রীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার এই অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, মাদক কারবার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গোলাম দস্তগীর গাজী ছাড়া অন্য যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে তারা হলেন সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাহ আলম তালুকদার, বরগুনা-১ আসনের সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও তার ছেলে এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার।

দুদকের একজন পরিচালকের চিঠিতে বলা হয়, গোলাম দস্তগীর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক বিদেশে অর্থ পাচার করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার স্ত্রী তারাবো পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজীর বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির মহাপরিচালককে (বিশেষ তদন্ত) দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী গোলাম দস্তগীরের বছরে আয় ছিল ৭ কোটি ৬৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার টাকায়। ওই সময়ে তার নগদ ৯৪ লাখ ১২ হাজার টাকা, ১৬ লাখ ৭ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা, সাড়ে ৪ কোটি টাকার কোম্পানি শেয়ার, ৩৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার যানবাহনসহ মোট ৪৫ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার অস্থাবর এবং ১১ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার স্থাবরসহ মোট ৫৭ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকার সম্পদ ছিল।

১৫ বছর পর ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার নগদ ৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ৬১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকে জমা, ২২ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার, ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার যানবাহনসহ অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৩৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা। অকৃষি জমি ও ভবন বাবদ স্থাবর সম্পদ আছে ১০৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার। তার স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার। ১৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে ২৫ গুণের বেশি। ২০০৮ সালে ব্যাংকঋণ ছিল ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা ২০২৩ সালে দাঁড়ায় ৯৩৫ কোটি ৩২ লাখ টাকায়।

প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ : সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তিনি সরকারের অনেক জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দিয়ে কোটি কোটি আত্মসাৎ করেছেন।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের ১০ বছরে আয় বেড়েছে প্রায় ৫০ গুণ। একই সঙ্গে তার স্ত্রী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব স্ত্রী শেফালী বেগমের আয়ও বেড়েছে। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন শরীফ আহমেদ। ওই সময়ে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় তার ব্যবসা থেকে বছরে আয় ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামে ১০ তোলা সোনা, টিভি-ফ্রিজ, খাট, সোফা এবং ডাইনিং টেবিলের মূল্য দেখান ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি বছরে আয় দেখান ১ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৩৬ টাকা।

শাহে আলম তালুকদার : টেন্ডারবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে টিআর, কাবিখা এবং কাবিটার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

কবির বিন আনোয়ার : পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে কবির বিন আনোয়ারের বিরুদ্ধে।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু : ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে টিআর, কাবিখা এবং কাবিটার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার ছেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুমন দেবনাথের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।