নতুন সংকটে ফ্রান্স

ফ্রান্সে বামপন্থিরা জোট সরকার গঠন করতে চেয়েছিল। তবে তাদের চাওয়া খারিজ করলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। গত সোমবার প্রেসিডেন্ট মাখোঁ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে তিনি বামপন্থিদের সরকার গঠন করতে ডাকবেন না। এরপরই বামপন্থিরা মাখোঁর সমালোচনায় মুখর হয়েছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, মাখোঁর যুক্তি, বামপন্থি সরকার স্থায়ী হবে না। বামপন্থিদের এই জোটে আছে লেফট ফ্রান্স আনবাউন্ড (এলএফআই), সোশ্যালিস্ট, কমিউনিস্ট ও গ্রিনরা। এই জোটই গত নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল। ৫৭৭ আসনের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বামপন্থিরা পেয়েছিল ১৯০টি আসন, মাখোঁর দলের নেতৃত্বাধীন জোট পায় ১৬০টি আসন। দক্ষিণপন্থিরা ১৪০টি আসন। গ্রিন পার্টি মাখোঁর সমালোচনা করে বলেছে, তিনি ভোটের ফলাফলকে উপেক্ষা করছেন। এলএফআই বলেছে, তারা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা যায় কি না তা খতিয়ে দেখছে। বাম জোট দাবি করছে, তাদের সরকার গঠনের অধিকার আছে। কিন্তু মাখোঁর জোট এবং ডানপন্থিরা তাদের আটকাতে চাইছে। বামরা সরকার গঠন করলে তারা একজোট হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব এনে সরকারের পতন ঘটাবে। মাখোঁ বলেছেন, তিনি এমন একজন প্রধানমন্ত্রীকে বেছে নিতে চান না, যিনি পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবের মোকাবিলা করতে পারবেন না। তিনি বলেছেন, ‘আমার দায়িত্ব হলো, দেশে যেন অচলাবস্থা তৈরি না হয় বা দেশ যেন দুর্বল হয়ে না পড়ে।’

তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের বলেছেন, তারা যেন আরও দায়িত্বশীল হন এবং পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সাহায্য করেন। এলএফআইয়ের জাতীয় কো-অর্ডিনেটর ম্যানুয়েল বম্পার্ড বলেছেন, মাখোঁর কথা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অগণতান্ত্রিক কথা বলছেন। এলএফআই জানিয়েছে, তারা মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলবে, মানুষই যেন এর উপযুক্ত জবাব দেয়। তা ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়েও রাজনীতিকদের ভাবতে অনুরোধ করা হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ফ্যাবিয়েন রউসেল বলেছেন, নতুন করে আর আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। বরং এখন মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলার সময় এসেছে। গ্রিন পার্টির নেতারা বলেছেন, মাখোঁ বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন। তিনি স্থায়িত্ব চান না। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থে মাখোঁকে সরাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী মাখোঁ কাকে বেছে নেবেন, তা এখন দেখার।