সাত রাজ্যে ঝুলছে ট্রাম্প-কমলার ভাগ্য

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে চলছে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি। তার আগেই ভোটারদের আস্থা অর্জনে সম্ভাব্য সবকিছুই করছেন ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বাড়ছে। জো বাইডেন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর কমলা হ্যারিস তার স্থলাভিষিক্ত হলে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে ভোটারদের মধ্যে। আর তাতে পাল্টে গেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার হিসাব-নিকাশ। যার ছাপ পড়েছে নির্বাচনপূর্ব জনমত জরিপে।

গত সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন কমলা। শুরুতে বাইডেনের চেয়ে ট্রাম্প যেখানে এগিয়ে ছিলেন, সেখানে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় এরই মধ্যে ট্রাম্পকে ছাড়িয়ে গেছেন কমলা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইপসোসের করা জরিপে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের চেয়ে চার পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন কমলা হ্যারিস। যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়। ৪ হাজার ২৫৩ জনের মধ্যে চালানো জরিপে নিবন্ধিত ভোটার ৩ হাজার ৫৬২ জন। নতুন এই জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যেখানে ৪১ শতাংশ, সেখানে কমলার জনপ্রিয়তা ৪৫ শতাংশ। তবে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় কমলার চেয়ে ২ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প।

নতুন জরিপে কমলার প্রতি সমর্থন বেড়েছে নারী ও হিস্পানিক ভোটারদের। সেখানে কমলার জনপ্রিয়তা ৪৯ আর ট্রাম্পের ৩৬ শতাংশ। তবে শেতাঙ্গ ও পুরুষ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পই এগিয়ে রয়েছেন। যদিও জুলাইয়ের জরিপের সঙ্গে এই ব্যবধান খুব একটা বাড়েনি। তবে কলেজ ডিগ্রিধারী ভোটারদের মধ্যে এই ব্যবধান ৭ শতাংশ কমিয়ে এনেছেন কমলা। জরিপে দেখা যায়, হ্যারিস নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর ৭৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার নির্বাচনে ভোট দিতে উৎসাহী হয়েছেন। যেখানে আগের জরিপে বাইডেনকে ভোট দিতে উৎসাহের কথা বলেছিলেন মাত্র ৬১ শতাংশ ভোটার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী নির্ধারণে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে বাইডেনের সরে দাঁড়ানোর পর  যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জরিপ ও দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোর জরিপে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন কমলা। উইসকনসিন, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, অ্যারিজোনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান ও নেভাদা দোদুল্যমান এই সাত অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের ৪৫ শতাংশ জনপ্রিয়তার বিপরীতে কমলার ৪৩ শতাংশ। মার্কিন নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের তুলনায় ট্রাম্পকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এরই মধ্যে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত জর্জিয়া সফর করছেন কমলা হ্যারিস। তবে ভোটারদের মধ্যে অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসমর্থনে কমলার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ট্রাম্প। অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের পক্ষে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কমলার সমর্থন মাত্র ৩৬ শতাংশ। তবে গর্ভপাত নীতিতে কমলার ৪৭ শতাংশ জনপ্রিয়তার বিপরীতে ট্রাম্পের সমর্থন মাত্র ৩১ শতাংশ।

এদিকে, প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রথমবার কোনো সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস। বৃহস্পতিবার সিএনএনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সরকার, রাজনীতি, অর্থনীতি, সীমান্তনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, জ্বালানিনীতি, অভিবাসনসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন কমলা। এ সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী টিম ওয়ালজও তার সঙ্গে ছিলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দিন বদলানোর সময়। নির্বাচিত হলে সব মার্কিন নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি অভিবাসনসহ কিছু বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেন কমলা। এ সময় গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন কমলা। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘ এই জটিলতা নিরসনে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের কথা বলেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী।