নাজিয়া আফরিন
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, নারী মৈত্রী
বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোয় পানিবন্দি মানুষের বিশুদ্ধ পানির সংকটে নানারকম পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। বন্যার কারণে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পানিবাহিত রোগের বড় কারণ। অবিশুদ্ধ পানি পান করার মাধ্যমে অথবা সেই পানি রান্না বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করার ফলে যে ধরনের রোগ-ব্যাধি সংক্রামিত হয়ে থাকে তাকে পানিবাহিত রোগ বলে।
পানিতে থাকা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ-ব্যাধি: টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, ডায়েরিয়া, জন্ডিস, গ্যাসট্রিক, পেটের পীড়া, বদহজম, বমি, জ¦র, মাথাব্যথা, সর্দি-কাশি, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, অবসাদ, এলার্জি, ইন্দ্রিয় বৈকল্য ইত্যাদি।
পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ-ব্যাধি : ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ, গ্যাসট্রিক, ক্ষুধামন্দা, অবসাদ, মূত্রাশয় সংক্রমণ, মস্তিষ্ক ঝিল্লি প্রদাহ ইত্যাদি।
পানিতে মিশে থাকা এলজেল দ্বারা সৃষ্ট রোগ-ব্যাধি : হেপাটাইটিস-ই, জ্বর, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, গ্যাসট্রিক, ফাংগাল সংক্রমণ, চর্মরোগ, যকৃতের প্রদাহ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুবিক সংক্রমণ, পোলিও ইত্যাদি।
পানিবাহিত রোগের লক্ষণ : বেশিরভাগ পানিবাহিত রোগের লক্ষণ হলো পাতলা পায়খানা, বমি, জ¦র এবং পেটব্যথা।
পানিবাহিত রোগের ক্ষেত্রে যেসব খাবার গ্রহণ করতে হবে :
জাউ ভাত, ভাতের মাড়, চিকেন ও ডিমের স্যুপ খেতে হবে। বিশুদ্ধ পানি দিয়ে তৈরি খাবার স্যালাইন খেতে হবে। কাঁচ কলা, কাঁচা পেঁপে এবং করলা ভর্তা ও তরকারি খাওয়া যাবে হালকা মসলা দিয়ে। ডাবের পানি, আঙুর, বেদানা, আখ, মালটা, লেবু ইত্যাদির জুস খাওয়া যাবে।ভেজানো চিড়ার সঙ্গে সামান্য গুড় দিয়ে খাওয়া। নরম ভাতের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ, খুবই অল্প পরিমাণে সরিষার তেল ও একটু লবণ মেখে খাওয়া। সুজির খিচুড়ি খাওয়া যাবে।খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি খাদ্য তালিকায় তরল জাতীয় খাবার, সহজে হজম হয় এ ধরনের খাবার থাকতে হবে।
খেয়াল রাখুন
এ সময় খাবার স্যালাইন পাওয়া গেলেও বিশুদ্ধ পানি সবসময় পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি দিয়ে স্যালাইন তৈরি করতে হবে। বন্যাকবলিত এলাকার শিশুদের জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি ব্যবহার করা যায়।ফাস্টফুড, রাস্তার পাশের খাবার আচার, ফলের রস, ফুচকা, চটপটি; ট্রান্স ফ্যাটজাতীয় ঘি, ডালডা, বনস্পতি, মার্জারিন, পনির, পপকনজাতীয় খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। মসলাদার খাবার, তেলজাতীয় খাবার, অধিক ভাজা খাবার খাওয়া যাবে না।প্রতিবার টয়লেটের পর সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে।পানি ফুটিয়ে ফিল্টার করে খেতে পারলে ভালো।পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পূর্ণরূপে বজায় রেখে চলতে হবে।