বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে, তাকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার বেলা ১২টার দিকে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ছোট শরীফপুর এলাকায় বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে আলাদা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন। কোনো চাঁদাবাজের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নেই। আপনাদের এলাকায় কেউ যদি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করতে আসে, তাহলে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার মতো খবর প্রকাশ হচ্ছে। এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।’
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বিজয় অর্জিত হয়েছে, সেই বিজয়কে নস্যাৎ করার চেষ্টা চলছে বলে শঙ্কার কথা জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার এসেছে মাত্র ২০-২২ দিন হলো। আমরা তাদের সময় দিতে চাই। আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছি যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তারা তৈরি করতে পারে। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে নতুন সরকারকে সময় নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি ভালো একটা নির্বাচন করতে পারি, যদি জনগণের মনোনীত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া যায়, তবেই জনগণের আস্থা ফিরবে। তাই আমরা এই সরকারকে বলেছি, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে জনগণের মনোনীত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াছিন প্রমুখ।
‘শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, বেগম জিয়া না’ : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘আজ বেগম জিয়া দেশ থেকে পালাননি, শেখ হাসিনা দেশে নেই। তার নেতাকর্মীর কিছু জেলে আর কিছু আত্মগোপনে। এ বিজয় ছাত্র-জনতার জন্য হয়েছে। গত ১৫ বছর আমাদের ওপর অনেক নির্যাতন করেছে তারা। তারপর আমাদের একটা নেতাকর্মীও দেশ থেকে পালায়নি। ৭০০-এর বেশি নেতাকর্মী গুম হয়েছে। কে করেছে, স্বৈরাচারী সরকার শেখ হাসিনা করেছে। ছাত্র-জনতাকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে। ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ থেকে (৫ আগস্ট) এ স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েছে।’
গতকাল বিকেলে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার এআর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের এ সরকার, প্রশাসন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের এখন অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন এবং মিডিয়াকে ঢেলে সাজাতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ইলেকশন কমিশনকে সাজাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের নির্দেশে বন্যার্তদের মধ্যে কিছু উপহার নিয়ে এসেছি। আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসিনি। বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষগুলো আজ বড় অসহায়। একসময় তাদের সবকিছু ছিল। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে আমাদের। আজ ছাত্র-জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ চালাচ্ছে, তেমনি সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু অবাধ একটি নির্বাচন চাই।’
নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজির আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়া, কুমিল্লা বিভাগীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন ছোট নয়ন প্রমুখ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার।