শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে হবে না। তাদের চিন্তাধারার পরিবর্তন আসতে হবে। আচার-আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। তারা এদেশের মানুষ। রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল রবিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দীন নগর শিক্ষাপল্লী পার্কের অডিটোরিয়ামে সভার আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী, কুষ্টিয়া জেলা শাখা। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নেওয়াটা যেমন তাদের অন্যায় ছিল। আমরাও আরেকজনের কেড়ে নেওয়ার অধিকারী তা এভাবে বলি না। তবে হ্যাঁ, বহু দেশে আছে। যারা গণহত্যার সংগঠন করে। চোখের সামনে প্রমাণিত, চাক্ষুষ প্রমাণ আছে। তাদের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেইটা সময়ের পরিক্রমায় দেখা যাবে। আজই বললে হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘সেই সময় ছাত্র আন্দোলনকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে, মোড় ঘুরাতে অন্যায়ভাবে জুলুম করে আমাদের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আসলে আল্লাহ ছাড় দেন, তবে কাউকে ছেড়ে দেন না।’
নির্বাচন কবে হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা এই মুহূর্তে কোনো তারিখ হিসাব করছি না। কারণ, এই সরকারের এখনো এক মাস হয়নি। আর একটা মাস পার করুক। আমরা একটু দেখি তারা কী করেন। গত ১৫ বছরে দেশের সব সংবিধান ভেঙে গেছে। সুতরাং সংস্কার লাগবেই। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে তা অর্থবহ হবে না। তবে দীর্ঘ সময় নয়, নির্বাচনের জন্য যৌক্তিক সময় দেওয়া হবে।’
অনেকে মনে করেন দেশে ইসলামি শাসন কায়েম হলে মানুষের অধিকার খর্ব হবে। তাদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, ইসলামি শাসন কায়েম হলে মানুষ এদেশে বসবাস করে গর্ববোধ করবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ গর্ববোধ করবে। দেশে এত বড় একটা পরিবর্তন হয়ে গেল। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনষ্ট হয়ে গেল। আর আমরা দেশপ্রেমিকরা লাঠি হাতে তা পাহারা দিয়েছি।
অতীতের মতো বর্তমানেও হয়রানিমূলক মামলা ও আসামি করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জাতির কাছে বলে দিয়েছি এ ধরনের অপরাধ যেন কেউ না করে। সরকার এবং প্রশাসনকে জানিয়েছি কেউ যেন হয়রানিমূলক মামলার শিকার না হন।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়েতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ষড়যন্ত্র শুরু করে। জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পিলখানায় নরকীয় হত্যাযজ্ঞ করে। অনিয়ম-দুর্নীতি করে দেশকে লুটেপুটে নিয়েছে। মানুষের ওপর অন্যায়, অবিচার ও জুলুম করেছে। এদেশের ছাত্র-জনতা তা রুখে দিয়েছে। এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।
সভায় কুষ্টিয়া জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের নির্বাহী সদস্য ও পরিচালক মোবারক হোসাইন। সভা শেষে ২৭ জন শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ২ লাখ করে মোট ৫৪ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
এর আগে সকাল ৭টায় ফরিদপুর শহরতলীর মুন্সীবাজার বাইপাস এলাকায় যাত্রাবিরতিতে তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশের কোনো মতলববাজ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে পারে, এজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোনোভাবেই দেশের মানুষের কষ্ট হয় এমন কাজ করা যাবে না। ধর্ম-বর্ণ যেমনই হোক না কেন, সবাই একসঙ্গে সহ-অবস্থানে থাকতে হবে। কারণ আমরা সবাই বাংলাদেশি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের ক্ষতি যেন আল্লাহ পুষিয়ে দেন সেজন্য আমরা সবাই তাদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করেন। মাবুদের দরবারে শুকরিয়া ১৭ বছর যে যন্ত্রণা জাতির বুকের মধ্যে চেপে ছিল, তিনি যেন তা দূর করে দেন। আকাশে এখনো কালো মেঘ আছে, আল্লাহ যেন তা সরিয়ে দেন।