চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

বন্ধ আউটডোর, ঢামেকের জরুরি বিভাগে উপচে পড়া ভিড়

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ থাকায় জরুরি বিভাগে রোগীদের ভিড় বেড়েছে। বাড়তি রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এই বিভাগের চিকিৎসকদের। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রোগীর যে ভিড় দেখা যায় তা অন্য দিনের তুলনায় কয়েক গুন বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

ঢাকা মেডিকেল ইমার্জেন্সি অফিসার ডা. কিশোর বলেন, সকাল থেকেই জরুরি বিভাগে রোগীদের প্রচুর চাপ। আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত ৫১২ জন এখানে টিকিট নিয়েছেন যা আগের দিনের তুলনায় তিনগুণ। আউটডোর বন্ধ থাকায় জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।

ডা. কিশোর আরও বলেন, পুরাতন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয় আউটডোরে। আউটডোর বন্ধ থাকায় জরুরী বিভাগে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বাড়তি রোগীদের চিকিৎসা দিতে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জ থেকে ভাঙা পা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জুয়েল। হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। এই দুর্ভোগের কথা জানিয়ে এই ভুক্তভোগী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৪ মাস আগে মালয়েশিয়ায় ৪ তলা ভবন থেকে পড়ে পা ভেঙে যায় আমার। এরপর আমাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এর আগেও কয়েকবার ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছি। আজও ফলোআপে এসেছিলাম। তবে বহির্বিভাগে এসে দেখি সব রুম বন্ধ। কোনো চিকিৎসক নেই। এরপর জানতে পারলাম তারা কর্মবিরতি করছেন। এখন নিরুপায় হয়েই বাড়ি চলে যেতে হচ্ছে। 

হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রোগীদের জিম্মি করে চিকিৎসকদের আন্দোলন করাটা একেবারে অযৌক্তিক। আল্লাহর পরেই তো চিকিৎসকদের ভরসা করে মানুষ। তাদের কাছ থেকে এমন কিছু আমরা আশা করিনা।

নাকের চিকিৎসার জন্য বাবার হাত ধরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে ঢামেকে এসেছিলেন ৫ বছরের শিশু ইকরা। চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় তাঁকেও ফিরতে হয়েছে বাড়িতে।

ইকরার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কথা গতকাল শুনেছি। তবে রাতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে শুনলাম, তাঁরা কর্মসূচী প্রত্যাহার করেছে। সেজন্য সকালে বাচ্চাটাকে নিয়ে এসেছি। গতরাতে একটুও নাকের ব্যথায় একটুও ঘুমাতে পারেনি আমার মেয়েটি। 

নাকের সমস্যা নিয়ে ভাগ্নি জান্নাতকে (৫) নিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে এসেছিলেন সাথী আক্তার। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে নাকের ব্যথায় ভুগছে জান্নাত। সকালে এসে দেখি আউটডোর বন্ধ। পরে জরুরী বিভাগে এসে টিকিটের জন্য লাইন ধরেছি।

গাজীপুর থেকে হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসে রাকিবুল হোসেন (২৫)। ১৫ দিন আগে এক দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে যায়। তখন ঢাকা মেডিকেলের আউটডোরে দেখিয়েছিলাম। ১৫ দিন পর ফলোআপ ছিল। সেজন্য ঢাকা মেডিকেলের আউটডোরে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি আউটডোর বন্ধ। জানতে পারলাম ডাক্তারকে মারধর করায়  বন্ধ করে রেখেছে। এখন বাসায় ফিরে যাচ্ছি।

জুয়েল, ইকরা, রাকিবুলের মতো শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন যারা অনেক দূর থেকে এসেছেন। তাদের অনেকেই আউটডোরে চিকিৎসা না পেয়ে জরুরি বিভাগের টিকিট নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেকে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। চিকিৎসকদের কর্মবিরতির বিষয়টি কেউই ভালোভাবে নিতে পারছেন না।   

জরুরী বিভাগের টিকিট কাউন্টারের ইনচার্জ মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ৮ থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মোট ৫১২ জন টিকিট নেয় যা গত দিনের তুলনায় তিনগুণ। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অর্ধশত রোগী। এর আগে যা কখনও হয়নি। আউটডোর বন্ধ থাকায় জরুরী বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। 

এদিকে রোববার রাত থেকে জরুরি বিভাগের সামনে সেনাবাহিনী এপিসি গাড়িসহ, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবের বিপুল সংখ্যক সদস্য চিকিৎসকদের নিরাপত্তার কাজ করছেন।