ঢামেক হাসপাতালের কুলার বিকল, মেঝেতে মরদেহের সারি

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

মরদেহ রাখার ফ্রিজ নষ্ট এক সপ্তাহ যাবত। আর এতে মরদেহ পচে গলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। এমন চিত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালাতের মর্গে। যেখানে প্রতিদিন ময়নাতদন্ত হয় অন্তত ৮-১০টি মরদেহের। মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এখন দেখা দিয়েছে, মরদেহের বিভিন্ন আলামত নষ্টের আশঙ্কা।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সরেজমিনে মর্গে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের ফরেনসিক বিভাগের পাশে রাখা বিশেষ মর্চুয়ারী কুলার। যেখানে এক সাথে রাখা যায় ৪০টি মরদেহ। তবে এটি আপাতত বিকল। তাহলে মরদেহ সংগ্রহের উপায় কি! মর্গের কমপ্লেক্সের ভিতর ঢুকলে দেখা যায়, একটি রুমে ফ্লোরে সারি করে রাখা হয়েছে মরদেহগুলো। কয়েকটি রাখা হয়েছে মরদেহ পরিবহনের ট্রলিতে। তবে রুমটিতে নেই কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র।

মর্গ সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোপূর্বে ৫টি ছোট ছোট ফ্রিজারে রাখা হতো মরদেহগুলো। তবে সেই ফ্রিজারগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় কয়েক বছর আগে মর্গে স্থাপন করা হয় এই বিশেষ মর্চুয়ারী কুলার। যেখানে এক সাথে রাখা যায় ৪০টি মৃতদেহ। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে কুলারটি পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়েছে।

এই অবস্থায় কীভাবে মরদেহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা বলেন, নিরুপায় হয়ে ফ্লোরে রাখা হচ্ছে মরদেহগুলো। এভাবে মরদেহ থেকে বিভিন্ন আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে জানান তারা। রয়েছে ইঁদুরের আক্রমণের সম্ভাবণাও। এছাড়াও, মরদেহের গন্ধে ক্লাশ করতে পারছেন না ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর লেখা একটি আবেদন পত্রে দেখা যায়, ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান মর্চুয়ারী কুলার অকেজো হয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত করে লিখেছেন, এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করা অতি জরুরি। ২ জুন বিষয়টি অবগত করা হলেও ৮ জুনও এর কোনো সুরাহা দেখা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত আছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত