ভারতবিরোধিতা ও পিতৃপরিচয় গুমের কারণ : আযমী

পিতৃপরিচয় ও ভারতের বিরোধিতা করার কারণে তাকে গুম করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। আট বছর গুম থাকার পর গত ৬ আগস্ট মুক্তি পান জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমির গোলাম আযমের ছেলে আযমী। গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আয়নাঘর নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালায় ওই সময়ের অভিজ্ঞতার কথা জানান।

একই সঙ্গে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আযমী যুক্ত হন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে। তিনি জানান, দাঁত, চোখসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়েছেন।

আব্দুল্লাহিল আমান আযমীর বাবা জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদ-ের সাজা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাজা খাটা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে তার অবস্থান জানতে চাইলে আযমী দাবি করেন, বিচারের সময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেছেন, গোলাম আযমের অপরাধ প্রমাণিত নয়। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, এটা মিথ্যা অপবাদ।

সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘গুপ্ত বন্দিশালায় থাকাকালে আমাকে একজন বলেছেন, আপনি বিদেশি শক্তির গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। এই কারণে আমাকে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে, আপনি ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার কেন।’

আযমীর ভাষ্যমতে, তিনি ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট রাতে গুমের শিকার হন। সারাক্ষণ তার চোখ কাপড় দিয়ে ও হ্যান্ডকাপ দিয়ে হাত বেঁধে রাখা হতো। কোথায় গোপন বন্দিশালায় তাকে রাখা হয়েছিল সেটা তিনি অনুমান করতে পারেননি। ২০২১ সালের মে মাসের কোনো এক দিন একটি মুচলেকাপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হয় তাকে। সেখানে লেখা ছিল যে, তিনি আর কখনো ভারতবিরোধী কথা বলবেন না এবং কখনো রাজনীতি করবেন না। কিন্তু তিনি স্বাক্ষর করতে রাজি হননি।

আযমী জানান, গত ৬ আগস্ট রাতে তিনি ‘আয়নাঘর’ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সেদিন ভোরেই তাকে মুখোশধারী কয়েকজন লোক গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকায়। নামিয়ে দেওয়ার পর তার হাতে ৫ হাজার টাকা ধরিয়ে দেন মুখোশধারীরা। সেই টাকা নিয়ে তিনি ঢাকাগামী একটি বাসে উঠে এক যাত্রীর মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের লোকজন তাকে ঢাকার টেকনিক্যাল মোড় থেকে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় নেওয়ার একদিন পরে আযমী অজ্ঞান হয়ে যান। তারপর থেকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষ করার আগে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন আযমী। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম গুম-হত্যা বন্ধ, সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত, সংবিধান ও জাতীয় সংগীত পরিবর্তন।

তিনি সেইসঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা ও বর্তমান জাতীয় সংগীতের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংগীতের বিষয়টি এই সরকারের ওপর ছেড়ে দিলাম।

বেআইনিভাবে আটকে রাখার ব্যাপারে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেনাপ্রধান নিজে একটা কমিটি করেছেন। তাদের সঙ্গে আমার চার ঘণ্টা কথা হয়েছে। অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা আমাকে বলেছে, তারা সত্য উদঘাটন করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেনাপ্রধান এবং সত্য উদঘাটন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।