দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের অভিযোগে এক নারী কনস্টেবলসহ ২ সদস্যকে বরখাস্ত করেছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের পুলিশ। কর্তব্যরত অবস্থায় টিকটক ভিডিও করার অভিযোগে মারিয়া গিল নামে ওই নারী পুলিশ কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি সিন্ধু প্রদেশের গিজরি থানায় কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, সম্প্রতি নারী পুলিশ কনস্টেবল মারিয়া গিলের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তা দক্ষিণ পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) আসাদ রাজার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এরপরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, ২০২৩ সালে অনলাইনে আপলোড করা কনস্টেবল জিশানের একটি ভিডিওও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যার ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিনিয়র সিটি পুলিশ সুপার (এসএসপি) আরিফ আজিজ বিষয়টি নজরে আনেন এবং কনস্টেবল জিশানকে সিটি এসএসপি অফিসে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেন।
বাগদাদি পুলিশ স্টেশনে কর্মরত বরখাস্ত হওয়া ওই তরুণ পুলিশ সদস্যকে ইউনিফর্ম পরা পিস্তল হাতে ছবি তুলতে দেখা যায়। সিটি এসএসপি জানিয়েছেন, পুলিশ কনস্টেবল জিশান ২০২৩ সালে টিকটকে ভিডিওটি আপলোড করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তাকে অস্ত্র নিয়ে (ভিডিওতে) প্রদর্শন করতে দেওয়া হবে না।
শৃঙ্খলা ও কাজের নৈতিকতার কথা বিবেচনা করে পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দিয়ে দুই পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ।
কনস্টেবলদের ভিডিওতে হতাশা প্রকাশ করে সিন্ধু পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জানান, পুলিশ একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে কাউকে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজে জড়িত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
অস্ত্রসহ কোনো পুলিশ সদস্য ভিডিও ধারণ করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, সরকারি তথ্য ও নথি ফাঁস হওয়া ঠেকাতে অনুমতি ছাড়া সব সরকারি কর্মচারীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে এর আগে নির্দেশনা জারি করে সরকার। সংস্থাপন বিভাগ থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা ১৯৬৪ সালের সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী নির্দেশনা মেনে চলতে আইনগতভাবে বাধ্য। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিজীবীরা অনুমতি ছাড়া আর কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না।