দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন কুক। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় যান তিনি। খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সারাহ কুক।
২০১৮ সালে কারাবরণ ও হাসপাতালে চিকিৎসার পর এই প্রথম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
সারাহ ক্যাথেরিন কুককে ফিরোজায় অভ্যর্থনা জানান খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার ও সদস্য অধ্যাপক এএফএম সিদ্দিকী এবং ‘স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য চেয়ারপারসনস ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির’ সদস্য তাবিথ আউয়াল।
এরপর প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেন খালেদা জিয়া ও সারাহ কুক। তাদের আলাপের বিষয়ে পরে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের স্বাস্থ্য নিয়ে কূটনৈতিক মহলে শঙ্কা ছিল, চিন্তা ছিল। ওনার সুস্থতা নিয়ে সবার একটা প্রশ্ন ছিল। তাদের প্রথম জানার বিষয় ছিল, ম্যাডামের শরীর কেমন, ভালো আছেন কি না। ওনার চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি আছে কি না এসব বিষয় আলোচনা করেছেন। দ্বিতীয় কথা হয়েছে, এই পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে, নতুন প্রেক্ষাপটে আমরা কোথায় যাচ্ছি, বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে, এ বিষয় নিয়ে ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলেছেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের আলাপে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানান আমীর খসরু।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে : ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। সর্বশেষ এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২১ আগস্ট বাসায় ফেরেন দুর্নীতির দুই মামলার দণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ ব্যাপারে কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহিদ বলেন, ‘ম্যাডামকে বিদেশে নিতে তার যে দীর্ঘ সময়ের জার্নি, সে বিষয়ে তার প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। মেডিকেল বোর্ড বলেছে, ইউকেতে নেওয়া হলে ৮ থেকে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগে অথবা ইউএসএ নিতে হলে ১৮ থেকে ২১ ঘণ্টা ফ্লাইং আওয়ার লাগবে। কাজেই এই যাত্রার জন্য শারীরিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউকে ও ইউএসএর হসপিটালের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের যোগাযোগ আগে থেকে হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ওনার শারীরিক সুস্থতা ভ্রমণের মতো হলেই বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখা হবে।’