জামায়াত আমির

যে সুনির্দিষ্ট অপরাধ করেছে তাকে শাস্তি পেতে হবে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা বলেছি, আমরা প্রতিশোধ নেব না এর মানে হচ্ছে আমরা নিজের হাতে আইন তুলে নেব না। কিন্তু যে সুনির্দিষ্ট অপরাধ করেছে, তার বিরুদ্ধে মামলা হবে এবং তাকে শাস্তি পেতে হবে। গণহত্যার বিচার করতে হবে এবং গত সাড়ে ১৫ বছরে যেসব অপরাধ করা হয়েছে তার বিচার করতে হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘গত সরকার ক্ষমতার লোভে জেদের বশবর্তী হয়ে গণহত্যা চালিয়েছে। সরকার শুধু স্থলভাগেই নয়, আকাশ থেকেও গুলি চালিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করেছে। স্বাধীন দেশে পরিচালিত এ গণহত্যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাই খুনিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দল হিসেবে সাড়ে ১৫ বছর আমাদের সঙ্গে বৈরী আচরণ করা হয়েছে। আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে সরকার দিশেহারা হয়ে আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।’

গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির দেশে হিংসার ও প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান চেয়ে বলেছিলেন, ‘দল হিসেবে আমাদের ওপর যা করা হয়েছে, আমরা আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিলাম।’ এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনার সরকার সুস্পষ্ট গণহত্যা চালিয়েছিল। এতে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষমা করার অধিকার কারও নেই।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিষ্ঠুরভাবে দমনের চেষ্টা করেছে সরকার। যেকোনো মূল্যে গদি টিকিয়ে রাখতে হবে, এ জেদ ধরে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়। এটা সুস্পষ্ট গণহত্যা। শুধু স্থলভাগে নয়, আকাশ থেকেও গুলি চালানো হয়েছে। ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের লাশ গুম করা হয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আশুলিয়ায় ভ্যানভর্তি মানুষের মরদেহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখানে ট্রাকের (ভ্যান) ওপর লাশের স্তূপ। তারপর ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাব, এ গণহত্যা যারা সংঘটিত করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে।’

জামায়াতের আমির ধনী-ব্যবসায়ী লুটেরাদের বিচার ও তাদের ক্ষমা না করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘গরিব দেশের কিছু চতুর ধনী জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে, ব্যাংকগুলো ফোকলা করে দেশের বাইরে অর্থ নিয়ে গেছে। এ অর্থ ১৮ কোটি মানুষের। তাদের আইনের আওতায় এনে অর্থও ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না।’

বক্তব্যের শুরুতে জামায়াতের আমির একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দলের পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে ‘মিথ্যা তথ্য ও সাজানো আদালতের রায়ে’ ফাঁসি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ পাঁচজনসহ ১১ জন মৃত্যুদ-ে দ-িত ও প্রয়াত নেতাকে তিনি স্মরণ করেন।

শত শত ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অর্জিত এ পরিবর্তনকে কেউ যাতে ব্যর্থ করে দিতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাড়ে ১৩ বছর পর দলের সারা দেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যদের সরাসরি উপস্থিতিতে এ অধিবেশন হয়। অধিবেশন পরিচালনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যরা।