ত্রিপুরার ডুম্বুর বাঁধ অভিমুখে ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে ১০টি ট্রাকে শুরু হয় এ লং মার্চ। আন্তঃসীমান্ত নদীতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে ইনকিলাব মঞ্চ।
লং মার্চে যোগ দিতে শুক্রবার সকাল থেকে শাহবাগে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে ইনকিলাব মঞ্চ। এরপর ট্রাকে শুরু হয় লং মার্চ। প্রথমে যাত্রাবাড়ী, পরে কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে তারা সমাবেশ করেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার টাউন হলে বিশাল জনসমাবেশ শেষে পদযাত্রা নিয়ে বিবির বাজার পৌঁছায় ইনকিলাব মঞ্চের লং মার্চ।
শাহবাগের সমাবেশে সংগঠনের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির বলেন, ‘দেশ আজ গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন এক দিগন্তে উপনীত হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকাকালে ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনগণ আওয়াজ তোলার সাহস করেনি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভারত পানিসন্ত্রাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ওপর প্রতিনিয়ত সীমাহীন জুলুম করেই যাচ্ছে।’
ভারতের পানিসন্ত্রাসের প্রতিবাদে ইনকিলাব মঞ্চ পাঁচ দফা দাবি দিয়েছে। এর মধ্যে অতিদ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া, জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭-এ অতিসত্বর অনুস্বাক্ষর করা উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া এ কনভেনশন অনুযায়ী ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উজানের দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া, আন্তঃসীমান্ত নদীর নতুন তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া, ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর অববাহিকাভিত্তিক পানিবণ্টনে সব পন্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভারতের সব অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদের দাবিতে আন্তর্জাতিক ফোরামকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেছেন এ মঞ্চের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ও জুনিয়র সহ-সমন্বয়কদের নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ গঠিত। সংগঠনটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি পালন করছে।