খুলনায় ছাত্র আন্দোলনের নেতা বদরুল নিখোঁজ

খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা বদরুল হাসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে তার পরিবার। গতকাল শনিবার খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী সাঈদা খাতুন বলেন, ‘বদরুল গত দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হলেও পুলিশ এখনো কোনো খোঁজ দিতে পারেনি।’  এ ঘটনায় নিখোঁজ বদরুলের স্ত্রী, পরিবার ও সহকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুরছালীন ও আহম্মদ হাফিজ রাহাত বলেন, ‘বদরুল হাসান ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা। খুলনায় আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারি থেকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া রহস্যজনক।’

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বদরুলের স্ত্রী বলেন, ‘৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে আমার স্বামী বদরুল বাসা থেকে বের হয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার সময় মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে কথা হলে বদরুল জানায়, ‘আমি ত্রাণের কাজে ব্যস্ত আছি’। ‘দ্রুত বাসায় ফিরব’। পরবর্তী সময়ে আর বাসায় ফেরেনি। রাত ১১টার পরে আমি আমার স্বামীকে ফোন দিলে একবার নম্বর খোলা পাই। কিন্তু সে রিসিভ করেনি। তারপর থেকে নম্বর বন্ধ।’  

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর পাঁচ মাসের শিশু সাফওয়ানকে নিয়ে তারা খুলনা নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনারবাংলা গলিতে বসবাস করেন। বদরুল হাসান সরকারি হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। পড়ালেখার পাশাপশি তিনি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পার্টটাইম জব করেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।’

 সাঈদা খাতুন আরও বলেন, এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এবং কয়েকজন সমন্বয়কের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তা ছাড়া সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজেছি। কিন্তু কোনো খোঁজ না পেয়ে গত শুক্রবার সকালে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। এ ছাড়া ওইদিন রাতে খুলনা থানায় আরও একটি জিডি করেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত আমিনুল ইসলাম বলেন, এখনো তার ক্লু পাইনি। তবে সে ত্রাণের কাজ করছিল আমাদের থানার ঠিক বিপরীত দিকে, যেটা পড়েছে খুলনা সদর থানার মধ্যে। ওখানে কাজ শেষে সে রাত ৯টার দিকে বাসায় যেতে চেয়েছিল। কিন্তু সে বাসায় যায়নি। তারপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। সম্ভাব্য তার যে সব জায়গায় যাওয়ার কথা সব জায়গাতেই খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ফোনও ট্রেকিং করা হয়েছে, সেখানে দেখানো হচ্ছে ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ত্রাণ দেওয়ার কাজ যে জায়গায় করেছিল সেই জায়গায় দেখাচ্ছে। আমরা তার সন্ধান পাওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।