প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে মুখোমুখি হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় এবিসির আয়োজিত এই বিতর্ক আসন্ন নির্বাচনে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারণ করে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্কের আগে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উভয়ই। পাশাপাশি এই বিতর্কে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস কীভাবে সামলাবেন তা নিয়েও বিস্তর জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিতর্কের আগে তাই দুই প্রার্থীর অবস্থান নিয়ে জরিপ চালিয়েছে ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি।
বিপুলসংখ্যক দর্শক টেলিভিশনে কমলা ও ট্রাম্পের এ বিতর্ক অনুষ্ঠান দেখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিতর্কে কমলা ও ট্রাম্প নীতিমালা ও মূল্যবোধ নিয়ে কী আলোচনা করবেন, তার পাশাপাশি তাদের অঙ্গ ভঙ্গি, সংযম ও পারদর্শিতা নিয়েও ভোটাররা তাদের ভাবনা কথা জানিয়েছেন এএফপিকে। জরিপে দেখা যায়, দুই দলের সমর্থকরা তাদের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেওয়ার অতীত অভিজ্ঞতা থাকায় কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্প সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন কিছু ভোটার। তবে প্রথমবার বিতর্কে অংশ নিলেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রাখবেন কমলা এমন মতও জানিয়েছেন ভোটারদের একটি অংশ।
নির্বাচনী বিতর্কের জন্য কয়েকদিন ধরেই পেনসিলভানিয়ায় অবস্থান করছেন কমলা হ্যারিস। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই বিতর্কের আগে পিটসবার্গে যান কমলা। সেখানে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করে ট্রাম্পকে আক্রমণের কৌশল সাজানোর পরিকল্পনা ছিল বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্টের। এমনকি বিতর্কের আগে পেনসিলভানিয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও, ভোটারদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা। অতীত অভিজ্ঞতা না থাকলেও, কমলা বিতর্কে ট্রাম্পকে কোণঠাসা করবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
তবে বরাবরের মতো এবারও নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্প তার আক্রমণাত্মক কৌশলই অবলম্বন করবেন। অতীতেও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ট্রাম্প এই পন্থা বেছে নিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের বিপক্ষে বিদ্বেষপূর্ণ কথা-বার্তার কারণে কট্টরপন্থি মার্কিনিদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। এবারের নির্বাচনেও নিজের প্রচারণা শিবিরের পরামর্শ উপেক্ষা করে সে ধারা জারি রেখেছেন ট্রাম্প।
তবে অতীতের মতো এবার ট্রাম্পের জন্য কাজটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন খোদ ট্রাম্পের দলের লোকজনই। রিপাবলিকান নেতা ও কর্মীদের মধ্যে একটি অংশ মনে করছে, কমলা হ্যারিসকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। একসময় ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও মার্কিন সিনেটর কমলাকে পাকা বিতার্কিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন অনেক রিপাবলিকান সমর্থক। তাই বিতর্কে কমলাকে হালকাভাবে নিলে, সেটি পক্ষান্তরে ট্রাম্পের জন্যই বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এবারের নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে অবশ্য চিত্র এরকম ছিল না। প্রথম নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান জো বাইডেন। পরে দলীয় মনোনয়ন পান কমলা হ্যারিস। আর এখান থেকেই বদলাতে শুরু করে পটভূমি। কমলা মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে রিপাবলিকানদের সঙ্গে ব্যবধান কমতে থাকে ডেমোক্র্যাটদের। সাধারণ ভোটারদের মধ্য জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গিয়েছেন কমলা। এমনকি দোদুল্যমান ছয় রাজ্যের নির্বাচনপূর্ব জরিপেও ট্রাম্পের থেকে এগিয়ে রয়েছেন কমলা। পাশাপাশি নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কমলা হ্যারিসকে পেছনে ফেলতে পারেননি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে অগ্রগামী ভূমিকা
থাকবে দোদুল্যমান রাজ্য পেনসিলভানিয়ার। আর সেখানেই নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় বিতর্কে মুখোমুখি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী।