মণিপুরে পরিস্থিতির অবনতি কারফিউ জারি

ভারতের মণিপুর রাজ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থার ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। বিদ্রোহীদের তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি হামলা ও সংঘর্ষে আবারও অশান্ত হয়ে উঠছে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যটি। গত কয়েক দিনে দফায় দফায় গুলিবিনিময় হয়েছে বিদ্রোহী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। এতে বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় কারফিউ জারি করা হয়েছে রাজ্যটির তিন জেলায়।

এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার পূর্ব ইম্ফল, পশ্চিম ইম্ফল ও থাউবালে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় নিজ নিজ জেলার ম্যাজিস্ট্রেটরা কারফিউ জারি করেন।

গত কয়েক দিনের সংঘাতে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে মণিপুর। গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে জাতিগত সংঘাত চলছে রাজ্যটিতে। কিছুদিন আগে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। পরে গত শুক্রবার বিষ্ণুপুর জেলার মৈরাং এলাকায় রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী মাইরেম্বাম কৈরেং সিংয়ের পারিবারিক বাসভবনে রকেট হামলা হয়। এ ছাড়া মণিপুর রাইফেলসের দুটি ব্যাটালিয়নের অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্রশস্ত্র লুটের চেষ্টা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, নিরাপত্তা ও যৌথবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কুকিরা বিদ্রোহী এসব হামলার পেছনে দায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছেন মণিপুর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিদর্শক কে খাবিব। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলোর কারণে, মণিপুর পুলিশ যৌথবাহিনীর সঙ্গে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জেলা সদরে রয়েছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। টহলের জন্য একটি সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে চিরুনি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

গত বছরের মে থেকে মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা শুরু হয়। রাজ্যটির সমতলে বাস করা মেইতে সম্প্রদায়ের সঙ্গে পাহাড়ি সম্প্রদায় কুকিদের সংঘর্ষে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর ঘর ছাড়তে বাধ্য হন কয়েক হাজার মানুষ।