ভয়াবহ ৯/১১ হামলার ২৩ বছর

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এ হামলা ৯/১১ নামে পরিচিত। ওই দিন আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা দুটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সুউচ্চ জোড়া ভবন বা টুইন টাওয়ারে হামলা চালায়। আরেকটি উড়োজাহাজ আছড়ে পড়ে পেন্টাগনে। হামলা হয় পেনসিলভেনিয়াতেও। এসব হামলায় প্রাণ যায় প্রায় ৩ হাজার মানুষের, আহত হন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা এটি।

দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের মানুষ। দিনটি উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক শহরের স্মৃতিসৌধে নিহতদের নামের পাশে ফুল ও পতাকা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই সেখানে জড়ো হয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা অর্পণ করেন নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা। এসময় তাদেরকে নীরবে কাঁদতে দেখা যায়। স্মৃতিসৌধে নিহতদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের নাম উচ্চারণ করেন।

হামলার সেই দিনে ছিনতাইকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে একইসঙ্গে চারটি প্লেন ছিনতাই করে। তারপর সেগুলো ব্যবহার করে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আঘাত হানার জন্য বিশাল ও নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে। দুটি প্লেন বিধ্বস্ত করা হয় নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ভবনে।

প্রথম প্লেনটি আঘাত হানে নর্থ টাওয়ারে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে। দ্বিতীয় প্লেনটি সাউথ টাওয়ারে বিধ্বস্ত করা হয় এর কয়েক মিনিট পরেই, সকাল ৯টা ৩ মিনিটে। হামলায় দুটি ভবনেই আগুন ধরে যায়। ভবন দুটির ওপরের তলাগুলোতে মানুষজন আটকা পড়ে যায়। শহরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। দুটি ভবনই ছিল ১১০ তলা। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সেগুলো বিশাল ধুলার ঝড় তুলে মাটিতে গুঁড়িয়ে পড়ে।

তৃতীয় প্লেনটি পেন্টাগনের সদর দপ্তরের পশ্চিম অংশে আঘাত হানে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে ছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর বিশাল এই পেন্টাগন ভবন।

এরপর, সকাল ১০টা ৩ মিনিটে চতুর্থ প্লেনটি আছড়ে পড়ে পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে। ছিনতাই হওয়া চতুর্থ প্লেনের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পর সেটি বিধ্বস্ত করা হয়। আর মাত্র ২০ মিনিট হলেই ছিনতাই হওয়া চতুর্থ উড়োজাহাজটি ওয়াশিংটনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানত। সেটি হতে পারত হোয়াইট হাউস কিংবা ক্যাপিটল ভবন। কিন্তু তা হয়নি। 

আফগানিস্তানের জঙ্গি সংগঠন আল–কায়েদা এ হামলার পরিকল্পনা করে। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দায়ী করে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মূল পরিকল্পনায় এ হামলা চালানো হয়। উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ে ১৯ জন যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের তিনটি দল ও চারজনের একটি দলে ভাগ হয়ে উড়োজাহাজ ছিনতাই করা হয়।

প্রতিটি দলে এমন একজন ছিলেন, যার উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ ছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রেরই উড়োজাহাজ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেন। এরমধ্যে ১৫ জন ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক। দুজন ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের, একজন মিসর এবং একজন লেবাননের।