আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের মণিপুর রাজ্যে। গত কয়েক দিনে দফায় দফায় গুলি বিনিময় হয়েছে বিদ্রোহী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। এসব ঘটনায় ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যটি নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় তিন জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এরই মধ্যে মণিপুরের পুলিশকে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর থেকে আবারও সেখানে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এক নিবন্ধে এ পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) অলোক আস্থানা।
ভারতের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘দ্য ওয়ার’ এ প্রকাশিত নিবন্ধে মণিপুরের পুলিশকে মধ্যম পাল্লার মেশিনগান দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা। ভারতের জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও এ তথ্য প্রচারিত হয়েছে দাবি করে কর্নেল (অব.) অলোক আস্থানা বলেন, এই মারণাস্ত্র ইতিমধ্যে মণিপুর পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, এটি ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটারের মধ্যম পাল্লার মেশিনগান (এমএমজি)। সাধারণত প্রথাগত যুদ্ধে এ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। সেনাবাহিনী এমএমজি এমন জায়গায় ব্যবহার করে, যেখানে ‘শত্রুরা জড়ো হয়ে আছে’ এবং যাদের নিশ্চিহ্ন করা যাবে। প্রথাগত যুদ্ধের অস্ত্র সে রাজ্যের স্বল্প প্রশিক্ষিত পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ষষ্ঠ পদমর্যাদার কর্মকর্তা হলেন কর্নেল। এটিকে একটি ‘এরিয়া ওয়েপন’ বা একটি অঞ্চলের ওপর হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয় বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা। এটি কোনো সাধারণ বন্দুক নয়। এর অগ্নিবলয়ের মধ্যে কেউ পড়লে তার মৃত্যু নিশ্চিত। এটি থেকে পরপর কয়েকটি গুলি বের হয়। কর্নেল (অব.) অলোক বলেন, এমএমজি থেকে বাড়তি যা বের হয়, সেটি হলো বড় একটা অঞ্চলকে গ্রাস করার মতো আগুনের হলকা।’ এ যুদ্ধাস্ত্র এতই বিপজ্জনক যে, অভ্যন্তরীণ সংঘাত সামলাতে ভারতের সেনাবাহিনীকেও এমএমজি দেওয়া হয় না বলে জানান তিনি।
কর্নেল (অব.) অলোক আস্থানা নিজেরও মণিপুরের একটি ইউনিট পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেটি উল্লেখ করে তার অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ বিপদ সম্পর্কে সরকারকে সতর্ক করেছেন তিনি। নিবন্ধের শেষে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি তাদের নির্দেশ ব্যতীত মণিপুরের পুলিশের কাছে এই অস্ত্র দেওয়া হয়নি। তার ধারণা, বিদ্রোহীদের দ্বারা মণিপুর সরকারের চার হাজার অস্ত্র লুট হওয়ার কারণেই পুলিশকে এমএমজি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যদি এই এমএমজি লুট হয়, তাহলে ভারত সরকারকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে বলে মত তার।