ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার এরশাদের পতন ও সর্বশেষ ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান— সর্বক্ষেত্রেই গণমানুষের ক্ষোভ, অপ্রাপ্তি ও জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মূল আকুতি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের। সাধারণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পাশাপাশি প্রত্যেক আন্দোলনেই আলেম-ওলামাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বিগত দিনে আলেম সমাজকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকার আলেমদের কণ্ঠরোধ করতে ব্যাপকহারে শোষণ- নিপীড়ন চালিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার আয়োজনে ‘দ্বি-বার্ষিক ওলামা সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চাঁদাবাজ, দখলবাজ, অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের দমন করতে সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু করার আহ্বান জানিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, দ্বিতীয় স্বাধীন বাংলাদেশে আলেম সমাজের ওপর আর যেন দমন-পীড়ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আগামীতে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন তথা ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ বরিশালের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল হালিমের সভাপতিত্ব আরো বক্তব্য রাখেন পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুফতী বেজাউল করীম আবরার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মুফতী মিজানুর রহমান কাসেমী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগর সভাপতি প্রফেসর লোকমান হাকিম, বরিশাল জেলা সহ-সভাপতি শেখ সামছুল আলম মিলন, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল খায়ের আশরাফী, জেলা অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক এস এম রফিকুজ্জামান, বরিশাল মহানগর ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আরিফুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলনের বরিশাল জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ সানাউল্লাহ প্রমুখ। সম্মেলন শেষে প্রধান অতিথি বিগত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০২৪-২৫ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।