খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে মেডিকেল বোর্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থানীয় কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ এ কথা জানান।

খালেদা জিয়াকে বুধবার রাত ২টার দিকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

ডা. জাহিদ এ বিষয়ে জানান, ‘মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাতে ম্যাডামকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কেবিনে আছেন।

মেডিকেল বোর্ড তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিয়েছে। সেগুলোর কাজ চলছে।’

অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতা, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় দলীয়ভাবে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. জাহিদ বলেন, ‘ম্যাডাম সাড়ে ৪ বছর ধরে বিভিন্ন সময় এ পর্যন্ত ৪৭৯তম দিন এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আমরা তাকে ২১ আগস্ট বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। বুধবার রাতে আবার তাকে ভর্তি করতে হয়েছে। কথা আসবে আপনারা তাকে বাইরে নিচ্ছেন না কেন? একজনকে বাইরে নিতে হলে শারীরিক সুস্থতা প্রয়োজন। প্লেনে উঠতে হলে নেগেটিভ প্রেশার সহ্য করার মতো সুস্থতা থাকতে হয়, ফ্লাই করার জন্য নেগেটিভ প্রেশার আছে সেটা কতটুকু এসব জানতে হয়?’

তিনি বলেন, ‘ল্যান্ড করার সময় কতটুকু তিনি সহ্য করতে পারবেন এগুলো অ্যাকাডেমিক, প্রফেশনাল ও সায়েন্টিফিক বিষয়। মেডিকেল বোর্ড সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দেশি-বিদেশি সদস্যরা আলোচনা করছেন এবং শারীরিকভাবে তিনি একটু সুস্থ হলেই তাকে যত দ্রুত সম্ভব বাইরে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সেখানে যাতে তিনি একটা উন্নত সেন্টারে ফলোআপ করতে পারেন।’

কেন উন্নত সেন্টারে নেওয়া জরুরি, সে বিষয়ে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) কিছু রোগের সৃষ্টি হয়েছে, যেগুলো সত্যিকার অর্থে বাইরের আধুনিক সেন্টারে নিয়ে দেখানো ছাড়া এবং তাদের (বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের) ওপিনিয়ন (মতামত) নেওয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই। ম্যাডামের জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। তিনি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত শেখ হাসিনার সরকার ম্যাডামকে জেলে নেওয়ার পর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একাকিত্বের পাশাপাশি তার চিকিৎসা না করানো এবং আস্তে আস্তে তাকে একদম সংকটাপন্ন একটা অবস্থায় রেখেছিল। বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা সঠিকভাবে হয়নি। যার জন্যই ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাকে কয়েক দিন পরপরই হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।’

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয় গত বছরের ২৭ অক্টোবর। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে খালেদা জিয়ার রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তার স্বাস্থ্য কিছুটা স্থিতিশীল হলে পাঁচ মাসের বেশি সময় হাসপাতালে তাকে টানা চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। গত ২৫ জুন এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বাসানো হয়।