বার্ধক্যে অনেকেরই একাকিত্ব ভর করে। এর কারণ সঙ্গীর মৃত্যুশোক, পরিবারে গুরুত্ব কমে যাওয়া, শারীরিক অসুস্থতা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়ার মতো কিছু বিষয় বার্ধক্যে অবসাদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ‘বয়স বাড়লে শারীরিক এবং মানসিক দুর্বলতা চলে আসে। জীবনের সব রঙ, আনন্দ ধুয়েমুছে গিয়েছে এমন ভাবনা পেয়ে বসে। আর এই ভাবনা থেকে অবসাদ তৈরি হয়। সেই অবসাদ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তখন সাহস এবং ভরসা দেওয়ার একজন মানুষের দরকার হয়। অবসরের পর ভালো থাকার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে অবসরের আগেই। ‘প্রি রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান’ থাকা জরুরি। যিনি ৬০-এর পর কীভাবে জীবনে বাঁচবেন সেটা যদি আগে সময় নিয়ে ভেবে রাখা যায়, তাহলে সমস্যা হয় না। আশির পরও তো অনেকে বাঁচছেন। ফলে এই দীর্ঘ জীবনপর্বে কীভাবে ভালো থাকবেন, সেটা নিয়ে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। সেটা অনেকে করেন না বলেই বার্ধক্যে অবসাদ জাঁকিয়ে বসে।
যা করবেন
পছন্দসই কাজ করা : পারিবারিক দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্র, সন্তানকে বড় করে তোলা সব কিছু সামলাতে গিয়ে নিজের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে ওঠে না। অবসরের পর নিজের পছন্দের কথা ভাবুন। বিভিন্ন দায়িত্বের ভিড়ে অনেক স্বপ্নপূরণ হয়নি, সেগুলো নিয়ে বার্ধক্যে নতুন করে ভাবা যায়।
নিজেকে ব্যস্ত রাখা : চাকরি থেকে অবসর নেওয়া মানেই ব্যস্ততাহীন জীবন কাটানো নয়। বরং অন্য কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। সামাজিক নানা কর্মকান্ডে যুক্ত হতে পারেন। কিংবা সাংস্কৃতিক পরিম-লেও নিজেকে নতুন করে খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। মন ভালো
থাকবে।
বেড়াতে যেতে পারেন : মাঝে মধ্যেই বেড়াতে যেতে পারেন। পাহাড়, জঙ্গল কিংবা সমুদ্র পছন্দের জায়গায় গিয়ে কাটিয়ে এলে মন ভালো হয়ে যাবে। একঘেয়েমিও কেটে যাবে। মনের মধ্যে জমে থাকা নানা চিন্তাও দূর হয়ে যাবে।