শেখ হাসিনার নামে ট্রাইব্যুনালে আরও তিন অভিযোগ

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও তিনটি অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি হত্যার এবং একটি গুলি করে আহত করার অভিযোগ রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পৃথকভাবে এসব অভিযোগ দাখিল করা হয় বলে জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

এদিকে আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৪৭ জনের নামে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট প্রবল আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থায় পর্যন্ত ২২টি অভিযোগ হলো। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন আদালত ও থানায় শতাধিক হত্যা মামলা হয়েছে। 

আমাদের নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক জানান, গতকাল ট্রাইব্যুনালে দাখিলকৃত একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আন্দোলন চলাকালে সাব্বির ইসলাম সাকিবকে পাঁচটি গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর রাত ৩টার মধ্যে সাকিবের জানাজা ও দাফনের কাজ শেষ করতে পুলিশ নির্দেশ দেয়। অন্যথায় পুলিশ লাশ নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এমনকি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন সাকিবের বাবা মো. শহিদুল মল্লিক। এ অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

আরেকটি অভিযোগে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ১৮ জুলাই বেলা পৌনে ২টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে রোডে উত্তরা পূর্ব থানার সামনে বিএনএস সেন্টারের সামনে কিশোরগঞ্জের বগাডুবির মোমিনুল ইসলাম মারজানকে গুলি করে আহত করা হয়। গুলি তার চোখে-মুখে, গলায় ও বুকে লাগে এবং পরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার সময় চোখ থেকে গুলি বের করা হয়।

আরেকটি অভিযোগে ঘটনাস্থল উল্লেখ করা হয়েছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকার কাছে শফিপুর আনসার-ভিডিপি একাডেমির সামনে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট বিকেল ৪টায় মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহকে (১৯) গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনকে আসামি করে অভিযোগটি করেন আয়াতুল্লাহর বাবা মো. সিরাজুল ইসলাম। ১৬ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সহযোগিতায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আয়াতুল্লাহর লাশ পাওয়া যায়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় গুলিতে নিহত সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন রেজা বাদী জুয়েলের জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কাঁচপুরে রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে পঙ্গু করা ও মো. জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে কপালে গুলি করার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের লাধুর চর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে রুহুল আমিনকে গুলি করে পঙ্গু করার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বোন শেখ রেহানা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আসামি করে ১৭৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। জামপুর ইউনিয়নের ওটমা এলাকার চান মিয়ার ছেলে মো. জাহাঙ্গীর কাঁচপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫১ জনকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে মামলা দুটি হয়েছে। গতকাল সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারী সত্যতা নিশ্চিত করেন।