জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলের তদন্ত শুরু

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম বা তথ্যানুসন্ধান দল। গতকাল মঙ্গলবার থেকে দলটি তদন্ত শুরু করেছে।

এদিন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতিসংঘের তদন্ত দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমরা চাই তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক।’ অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কারণে উদ্ভূত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করছে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস।

প্রসঙ্গত, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম সত্য উদঘাটন, দায়-দায়িত্ব চিহ্নিতকরণ; মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ও তার পুনরাবৃত্তি রোধে বাংলাদেশের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।

এর আগে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের তথ্যানুসন্ধান দল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছর ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য প্রদানের জন্য সব ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দলটি সেসব তথ্যের জন্য অনুরোধ করছে, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যাবে না এবং প্রকাশিত বা প্রচার হয়নি। ঙঐঈঐজ-ঋঋঞই-ঝঁনসরংংরড়হং@ঁহ.ড়ৎম এই ইমেইলে তথ্য জমা দিতে হবে।

তদন্ত দল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা, চিকিৎসা পেশাজীবী এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণেরও পরিকল্পনা করেছে।

ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম কোনো অপরাধ অনুসন্ধান বা আইনি তদন্ত নয়। এটি যেকোনো জাতীয় ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত। এ তথ্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কঠোরভাবে গোপনীয়। তদন্ত চলাকালে, তদন্ত দলের সদস্যরা কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন না। তারা সবাইকে তথ্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করেছেন।

ঘটনাস্থলে পরিচালিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উপাত্ত বিশ্লেষণের পর, তদন্তের প্রধান ফলাফল, উপসংহার ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করবে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস।

এর আগে গত ২১ আগস্ট জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান রোরি মুনগোভেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কারিগরি দল বাংলাদেশ সফর করে। এক সপ্তাহ অবস্থান করে দলটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করে।