সাবেক এমপি মিতা ও তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়ে ২০০ গুণ

চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মাহফুজুর রহমান মিতা ও তার স্ত্রীর সম্পদ ১৯০ থেকে ১৯৯ গুণ বেড়েছে। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।

একই অভিযোগ কুমিল্লা-৮ আসনের সাবেক এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল ও যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। গতকাল বৃহস্পতিবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রামের সাবেক এমপি মিতা ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে হলফনামা দাখিল করেন তাতে তার আয় ছিল ৪৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৫ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়ে ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮২৪ টাকায় দাঁড়ায়। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে তার আয় ১০১ শতাংশ এবং অস্থাবর সম্পদ ১৯৯ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া তার স্ত্রী মাহমুদা মাহফুজের আয় ১৯০ শতাংশ এবং অস্থাবর সম্পদ ২৯ শতাংশ বেড়েছে। তাদের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে পূর্বাচলে ৫ কাঠার প্লট, মতিঝিলে ৫ কাঠা জমিতে নির্মাণাধীন ভবন, গুলশানে বিলাশবহুল ফ্ল্যাট, উত্তরা দিয়া বাড়িতে ৫ কাঠার প্লট ও সন্দ্বীপে জমি রয়েছে। এ ছাড়া মাহফুজুর রহমান মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন বলে দুদকের গোয়েন্দা শাখায় তথ্য-প্রমাণ এসেছে।

কুমিল্লার সাবেক এমপি নসিমুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার নিজ নামে বিজে জিও টেক্সাটাইলস মিলস লিমিটেডে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার বিনিয়োগ রয়েছে। ঢাকার নিকুঞ্জ ও বনানী ডিওএইচএসে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। তার কুমিল্লা বরুড়া বাজারে ১৭টি দোকান, কুমিল্লা সদরের ঠাকুরবাড়ি ও ঝাউতলায় দুটি বহুতল ভবন ও এলাকায় ৪৫০ বিঘা জমি রয়েছে।

যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র রেন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তিনি ২০১৬ সালে যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময়ে তার কোনো পৈত্রিক সম্পত্তি ছিল না। মেয়র হওয়ার পর তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে ৭২টি সড়ক নির্মাণ ও সড়ক বাতি স্থাপনে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেন। তিনি শহরের ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে অনিয়ম করে ৪০ বিঘা জমি আত্মসাৎ করেন। যশোর শহরের আরাবপুরে তার ১০ বিঘা জমির ওপর বিশাল বাগানবাড়ি, রূপা দিয়া এলাকায় ৪০ বিঘা জমির ওপর ফিড মিল, শহরের কাজীপাড়া এলাকা বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেন। তার বিরুদ্ধে এলাকার স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ খাত থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করার তথ্য উপাত্ত দুদকের গোয়েন্দা শাখায় এসেছে।