যাদের কল্যাণ চান আল্লাহ

আল্লাহভীতি একটি মহৎ গুণ। এ গুণ শুধু তারা লাভ করতে পারে, আল্লাহ যাদের কল্যাণ চান। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তার অন্তর ধনী করে দেন এবং তার অন্তরে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) দান করেন। আর আল্লাহ যার অকল্যাণ চান, তখন তার সামনে দরিদ্রতা ছড়িয়ে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান)

আল্লাহ যখন কোনো নেতার কল্যাণ চান, তখন তাকে এমন উত্তম সঙ্গী দান করেন যারা সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা যখন কোনো নেতার জন্য কল্যাণের ফায়সালা করেন, তখন তিনি তাকে সত্যবাদী ও ন্যায়নিষ্ঠ উজির দান করেন। যদি সে (নেতা) কিছু ভুলে যায়, তখন সে (উজির) তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেয়। আর নেতা যদি তা স্মরণ রাখে, তখন উজির তাকে সাহায্য করে। পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ কোনো নেতার জন্য অকল্যাণের ফায়সালা করলে তাকে অযোগ্য উজির দান করেন। ফলে যখন সে (নেতা) কিছু ভুলে যায়, তখন সে (উজির) তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেয় না। আর নেতা যদি স্মরণ রাখে, তখন সে তাকে সাহায্য করে না। (সুনানে আবু দাউদ)

আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন। আল্লাহই দানকারী আর আমি বণ্টনকারী। (সহিহ বুখারি)

যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, তাদের তিনি দুনিয়াতেই কিছু শাস্তি ভোগ করান, যাতে পরকালে তার সেই বান্দাকে শাস্তি ভোগ করতে না হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যখন তার বান্দার মঙ্গল কামনা করেন, তখন দুনিয়ায় তাকে অতি তাড়াতাড়ি বিপদাপদের সম্মুখীন করেন। আর যখন তিনি কোনো বান্দার অকল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তার গুনাহের শাস্তি প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন। অবশেষে কেয়ামতের দিন তাকে পরিপূর্ণ আজাবে নিপতিত করেন। (জামে তিরমিজি)

আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তার নিজের এবং সম্পদ ও সন্তানের ওপর বিপদ দেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য বিনাশ্রমে আল্লাহর পক্ষ থেকে মর্যাদার আসন নির্ধারিত হলে আল্লাহ তার শরীর, সম্পদ অথবা সন্তানকে বিপদগ্রস্ত করেন। অতঃপর সে তাতে ধৈর্যধারণ করলে শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ কর্র্তৃক নির্ধারিত উক্ত মর্যাদার স্তরে উপনীত হয়। (আবু দাউদ)