প্রতিদিন ডিম খাওয়া নিয়ে অনেক ধরনের মতভেদ আছে। প্রতিদিন ডিম খাবেন কিনা, কয়টা খাবেন, কীভাবে খাবেন। অথচ ডিম খাওয়া বা না-খাওয়া নির্ভর করবে যিনি খাচ্ছেন, তার স্বাস্থ্যের ওপরে। পুষ্টিবিদরা বলেছেন দুটি করে সেদ্ধ ডিম খেলে শরীরের ১০ রকম পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে।
শরীরের ওজনের কিলোগ্রাম পিছু ০.৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ কারও যদি ওজন ৭৫ কেজি হয়, তবে তার দিনে প্রোটিন প্রয়োজন ৬০ গ্রাম। যেহেতু একটি ডিমে ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে, তাই নিয়মিত দুটি করে ডিম খেলে ১২ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যাবে।
ভিটামিন এ : দুটি সেদ্ধ ডিমে রয়েছে ৫৪০ আইইউ ভিটামিন এ। চোখ এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এই ভিটামিন জরুরি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো রাখে ভিটামিন এ। কোষ বৃদ্ধি, প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও এই ভিটামিন উপযোগী। একজন প্রাপ্তবয়স্কের নিয়মিত ৩০০০ আইইউ ভিটামিন এ প্রয়োজন। ডিম তার অনেকটাই পূরণ করে।
ভিটামিন ডি : হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অতি প্রয়োজনীয় হলো ভিটামিন ডি। শরীরের প্রতিদিন ৬০০ আইইউ ভিটামিন ডি প্রয়োজন। দুটি ডিমে থাকে ৮২ আইইউ ভিটামিন ডি।
ভিটামিন বি ১২ : মস্তিষ্ক সঞ্চালনে সাহায্য করে ভিটামিন বি ১২। আবার স্নায়ুর কাজেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এর পাশাপাশি, রক্তে লোহিতকণিকা বৃদ্ধি, দৈনন্দিন কাজে চনমনে ভাব বজায় রাখতেও ভিটামিন বি ১২ দরকারি। সাধারণত রোজ ২ মাইক্রোগ্রাম এই ভিটামিনের প্রয়োজন। দুটি সেদ্ধ ডিমে থাকে ১.৬ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি ১২।
ভিটামিন বি ২ : ফ্যাট, প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট পরিপাকের জন্য দরকার হয় এই ভিটামিন। তা ছাড়া, ত্বক আর চোখের স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সাহায্যে করে ভিটামিন বি ২।
ফোলেট : ডিএনএ সংশ্লেষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএর মেরামতিতে সাহায্য করে ফোলেট। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের নিয়মিত ফোলেটের চাহিদা পূরণ করার কথা বলে থাকেন চিকিৎসকরা। প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট জরুরি। প্রতিটি ডিমে ২৪ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট থাকে।
স্যালেনিয়াম : এটি একটি জরুরি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। কোষের স্বাস্থ্য, থাইরয়েড, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে কাজে লাগে। প্রতি দিনের প্রয়োজনের ৫৫ মাইক্রোগ্রাম স্যালেনিয়ামের মধ্যে ২৮ মাইক্রোগ্রামেরই জোগান দিতে পারে দুটি সেদ্ধ ডিম।
কোলাইন : দুটি ডিমে ২৯৪ মিলিগ্রাম কোলাইন থাকে, যা দৈনিক প্রয়োজনের অর্ধেক।
আয়রন : হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক আয়রন। দুটি সেদ্ধ ডিমে থাকে ১.২ মিলিগ্রাম আয়রন।
জিঙ্ক : দুটি সেদ্ধ ডিমে ১.১ মিলিগ্রাম জিঙ্ক থাকে। জিঙ্ক শরীরের ক্ষত নিরাময়ে সহযোগী।