সৌহার্দের অনন্য নিদর্শন মুসাফা

মুসাফা আরবি শব্দ। এর অর্থ হাতে হাত মেলানো, করমর্দন করা ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় মুসাফা বলা হয়, সাক্ষাতের সময় ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ পরস্পর হাত মিলিয়ে একে অপরের কল্যাণ কামনা করা।

মুসাফা করা রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। সুন্নত আদায়ের পাশাপাশি মুসাফার দ্বারা পারস্পরিক আন্তরিকতা, সদ্ভাব ও ভালোবাসাও প্রকাশ পায়। এর দ্বারা সৌহার্দ-সম্প্রীতি ও কল্যাণকামিতার আভাস পাওয়া যায়। মুসাফার প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি দুজন মুসলমান পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফা করে তাহলে তারা উভয়ে পৃথক হওয়ার আগেই তাদের মাফ করে দেওয়া হয়।’ (জামে তিরমিজি) অপর বর্ণনায় এসেছে, ‘যদি দুজন মুসলমান পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফা করে, অতঃপর তারা আল্লাহর প্রশংসা করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (ইবনে মাজাহ)

হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দুজন মুমিন পরস্পরে সাক্ষাৎ হলে তারা যদি সালাম বিনিময় করে একে অপরের হাত স্পর্শ করে এবং মুসাফা করে, তাহলে গাছের শুকনো পাতার মতো তাদের গুনাহগুলো ঝরে পড়ে।’ (তাবরানি)

মুসাফার সুন্নত পদ্ধতি হলো, দুই হাতে মুসাফা করা। রাসুল (সা.)-এর অভ্যাস ছিল কেউ যখন তার সঙ্গে মুসাফা করত তখন তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত হাত ছাড়তেন না, যতক্ষণ সে হাত না ছাড়ত এবং তিনি তার দিক থেকে চেহারা অন্য দিকে ফেরাতেন না, যতক্ষণ না সে চেহারা ঘুরিয়ে নিত। এর দ্বারা মূলত রাসুল (সা.)-এর বিনয়ই প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং আমাদেরও সেভাবে মুসাফা করতে হবে, যেভাবে রাসুল (সা.) মুসাফাহ করেছেন।