এমপি কোটায় এবার এলো আরও ১৫ গাড়ি। সবগুলো গাড়ি এসেছে জাপানের টয়োটা কোম্পানি থেকে। সব গাড়ির মধ্যে এমপিদের স্টিকারযুক্ত নাম রয়েছে। এর আগে আসা চার এমপির গাড়ির বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের কারশেডে গিয়ে দেখা যায়, টয়োটা ব্র্যান্ডের নতুন ১৫টি গাড়ি। এসব গাড়ির প্রতিটির মধ্যে এমপিদের বর্তমানে সাবেক নাম লেখা রয়েছে। সাধারণত গাড়ির মধ্যে এমপিদের নাম লেখা থাকে না, একটি সিরিয়াল নম্বর লেখা থাকে। কিন্তু এসব গাড়ির গ্লাসের ভেতরের দিকে স্টিকারের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন-১৩-এর এমপি অভিনেত্রী তারানা হালিম, ময়মনসিংহ-১১-এর এমপি আবদুল ওয়াহেদ, জামালপুর-৫-এর আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-)-এর এমপি এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)-এর মুজিবুর রহমান, খুলনা-৩-এর এসএম কামাল হোসাইন, নওগাঁ-৩-এর সুরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, গাইবান্ধা-২-এর শাহ সারোয়ার কবির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১-এর এস এ কে একরামুজ্জামান, নেত্রকোনা-৪-এর সাজ্জাদুল হাসান, ঝিনাইদহ-২-এর নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, যশোর-২-এর তৌহিদুজ্জামান এবং সুনামগঞ্জ-৪-এর মুহাম্মদ সাদিক। এ ছাড়া আরও দুই এমপির নাম পাওয়া যায়নি। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি জিন্নাত আরা হেনরি, বগুরা-৫ আসনের এমপি মজিবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনের এমপি এ বি এম আনিসুজ্জামান ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের এমপি অনুপম শাহজাহান জয়ের গাড়ি। এই চারটি গাড়ির বিষয়ে গত ২১ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে ভবিষ্যৎ করণীয় জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের শুল্কমুক্ত গাড়ির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি কমিশনার অনুরূপা দেব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আগে চারটি গাড়ির নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু সেসব গাড়ির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এখন নতুন করে কোনো গাড়ি এলেও বিল অব এন্ট্রি করার আগে আমরা বলতে পারব না সেসব গাড়ি কার।’
কিন্তু গাড়ির মধ্যেই স্টিকার দিয়ে নাম লেখা রয়েছে বলা হলে অনুরূপা দেব বলেন, ‘গাড়িতে নাম লেখা থাকলেও আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট না আসা পর্যন্ত বলার সুযোগ নেই।’
এর আগে বিগত সরকারের এমপিদের মধ্যে ৫০টি গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। এসব গাড়ির মধ্যে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে আটটি গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এই আটটি গাড়ির মধ্যে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, নায়ক ফেরদৌস ও ব্যারিস্টার সুমনেরও গাড়ি ছিল। অবশিষ্ট ৪২টি গাড়ির মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে জমা রয়েছে ১৯টি গাড়ি। বাকি গাড়িগুলো পর্যায়ক্রমে আসছে বলে জানা যায়। সর্বশেষ ১৫টি গাড়ি কবে এসেছে, জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও সংস্থাটির সচিব ওমর ফারুক বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর এসব গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছে। বর্তমানে এসব গাড়ি বন্দরের কারশেডে রয়েছে। নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট জমা দিয়ে এসব গাড়ি ডেলিভারি নিতে পারবে আমদানিকারক। এ সময়ের মধ্যে কেউ তা না নিলে বিধি অনুযায়ী কাস্টমসের কাছে নিলামের জন্য তালিকা পাঠানো হবে।
কিন্তু অন্য এক সূত্রে জানা যায়, যেহেতু শুল্কমুক্ত সুবিধায় এসব গাড়ি আমদানি করা হয়েছে, তাই এগুলো নিতে হলে বর্তমানে শুল্ক দিয়ে নিতে হবে। এসব গাড়ি এক থেকে দেড় কোটি টাকায় কেনা হলেও বর্তমানে শুল্কসহ এসব গাড়ির প্রতিটির দাম পড়বে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এই টাকা শুল্ক দিয়ে আমদানিকারকরা গাড়ি ডেলিভারি না নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে এগুলো নীতিমালা অনুযায়ী নিলামে তোলা হতে পারে। যেহেতু আগের গাড়িগুলোর বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি, তাই নিলামের দিকেই হয়তো এগোচ্ছে এসব গাড়ির ভবিষ্যৎ।