ইউক্রেনকে আরও ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গে জরুরি আলোচনা হয়েছে বাইডেন প্রশাসনের। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর ফেডারেল অর্থবছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ইউক্রেনকে যাতে ৫৬০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নতুন এ সহায়তার বিষয়ে কংগ্রেসকে অবগত করছে হোয়াইট হাউজ। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগার থেকে ৫৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র কিয়েভে সরবরাহের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এর পাশাপাশি ইউক্রেন নিরাপত্তা সহায়তা উদ্যোগ কর্মসূচির আওতায় আরও একটি সহায়তা ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এ প্যাকেজে ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। এ প্যাকেজের অর্থ দিয়ে মার্কিন প্রশাসন নিজেদের গুদামের অস্ত্র না পাঠিয়ে অন্য কোম্পানির কাছ থেকে নতুন অস্ত্র কিনতে চায় ইউক্রেনের জন্য। এ সহায়তার আওতায় গোলাবারুদ, ড্রোন প্রতিহত করার অস্ত্র ও ইউক্রেনে যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদনে সহায়তা করার উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়া গত বুধবার ইউক্রেনের জন্য ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র। এ প্যাকেজে নির্ভুল রকেট লঞ্চার, ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র এবং হালকা কৌশলগত যান পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়া ইউক্রেনের পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সম্ভাব্য এ হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। তিনি বলেন, অন্য দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইউক্রেনের পারমাণবিক অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ করছে মস্কো। এ ব্যাপারে তার কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এ হামলা পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পাঁচটি জাহাজ এবং দুটি শিপিং প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাজ্য। চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার ছায়া নৌবহরের ১০টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাজ্য।