সরকারি খরচে হজের যৌক্তিকতা কতটুকু?

সরকারি খরচে হজে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতি বছরই নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর কারণ হলো, সরকারি খরচে হজে যাওয়ার তালিকায় থাকেন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ সব লোক। যদিও বলা হয়ে থাকে যে, যারা সরকারি খরচে হজে যান তারা মূলত দেশের হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য যান। গত বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে ৪৫৩ জন ব্যক্তি সরকারি খরচে হজে যান। এর মধ্যে সমন্বিত হজ চিকিৎসা দলে ছিলেন ২৮৯ জন। এজন্য সরকারের ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সময়ে এই বিশাল বহরের কারও দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের হাজিরা।

শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই বিষয়ে লেখেন, ‘সরকারি টাকায় হজ করা এক ধরনের বিলাসিতা। প্রতি বছর অনেক ক্ষমতাসীন রাজনীতিক ও সরকারের পছন্দের মানুষ রাষ্ট্রের টাকায় হজে যান। এটা শরিয়ত এবং নৈতিক কোনো দিক থেকেই সিদ্ধ নয়। এতে একদিকে যেমন দেশের টাকার অসদ্ব্যবহার হয়, পাশাপাশি এসব লোকদের পেছনে হজ অফিসকে বাড়তি মনোযোগ দিতে হয় এবং ব্যস্ত থাকতে হয়। এর ফলে সাধারণ হাজিরা তাদের যথাযথ সেবা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। সরকারি টাকা মানে জনগণের টাকা। জনগণ তো কাউকে হজের জন্য টাকা দেয় না। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জনগণের টাকায় হজ করছেন, এর মধ্যে কোনো গৌরব নেই। আছে প্রচ্ছন্ন লাঞ্ছনা। অতএব এই প্রথা চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত। তবে হ্যাঁ, সরকারের তরফ থেকে নিয়োজিত ডাক্তার, হজ গাইড ও অন্যান্য হজ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কথা ভিন্ন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘সরকারি হাজিদের সেবায় যারা সৌদি যান, তাদের বেশিরভাগই নিজের হজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে ঘোরাঘুরি করে সময় কাটান। সরকারি হাজিদের অবস্থা থাকে অনেকটা মা-বাপ ছাড়া সন্তানের মতো। তাদের দেখার যেন কেউ থাকে না। সরকারি হাজিদের অসহায়ত্ব ও দুরবস্থা দেখে প্রতি বছরই কষ্ট হয়। এ অবস্থারও অবসান হওয়া দরকার। হাজিদের সার্ভিস দেওয়ার নাম করে সেখানে হজ করতে যাওয়াও অনুচিত, যদি সেই হজ পালনের ফলে হাজিদের সেবাদানে ত্রুটি হয়।

সুতরাং পরিচিত কোটায় সেবার জন্য হজে যাওয়াও বন্ধ হওয়া উচিত।’ এই বিষয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘সরকারি টাকায় হজের প্রথা বন্ধ হোক। হজ হোক নিজের টাকায়। জনগণের টাকায় হজ আর তামাশার মধ্যে পার্থক্য কী?’