সুস্থ থাকতে অনেকেই মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দেন। চা, শরবত, কফি, সবই খাচ্ছেন চিনি ছাড়া। মন দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর নাশতায়। ফল বা সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে দুটি কী তিনটি পাউরুটির টোস্ট। তাতেও চিনির নামগন্ধ নেই। কৃচ্ছ্রসাধন করে মনে মনে নিশ্চয়ই ভাবছেন, চিনিকে জীবন থেকে পুরোপুরি বিদায় জানিয়েছেন। কিন্তু সকালে তিন-চারটি পাউরুটির সøাইস খেলে দিনের নির্ধারিত চিনির মাত্রার অর্ধেকটাই খাওয়া হয়ে যায়।
আমেরিকার হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের বেঁধে দেওয়া চিনির মাত্রা বলছে, একজন মহিলার ক্ষেত্রে দিনে ২৫ গ্রাম, অর্থাৎ ৬ চা চামচ চিনি খাওয়া নিরাপদ। অন্যদিকে একজন পুরুষ দিনে বেশি হলে ৩৬ গ্রাম বা ৯ চা চামচ চিনি খেতে পারেন। অথচ একেকটি পাউরুটির স্ল্যাইসে ৩-৪ গ্রাম চিনি থাকে। অর্থাৎ ১ চা চামচ। সে ক্ষেত্রে ৩-৪টি পাউরুটির স্ল্যাইস খাওয়া মানে ৩-৪ চা চামচ চিনি খাওয়া!
পুষ্টিবিদরা বলছেন, পাউরুটিতে চিনি তো দেওয়া হয়ই, পাশাপাশি বেকিং প্রক্রিয়াতেও চিনি তৈরি হয়। সব পাউরুটিতে চিনির পরিমাণ সমান না হলেও মোটামুটি একটি পাউরুটির স্ল্যাইসে ৩-৪ গ্রাম পর্যন্ত চিনি থাকতে পারে। যা প্রায় এক চা চামচেরই সমান।
চিনিকে বলা হয় সাদা বিষ। পৃথিবীতে স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা যত বেড়েছে, ততই চিনি খাওয়া কমানোর কথা বলা হয়েছে। চিনি শুধু বিভিন্ন রোগের কারণই নয়। স্বাস্থ্যবিদরা বারবার বলেছেন, চিনি আমাদের বয়সের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। আমেরিকার হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, মানুষের প্রতিদিন যে ক্যালরি প্রয়োজন হয়, চিনি তার ৬ শতাংশের বেশি যেন না খাওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু) পরামর্শ দিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের নিয়মিত খাওয়া চিনির পরিমাণ অন্তত ১০ শতাংশ কমানো উচিত।
আর পাউরুটি যদি খেতেই হয়, তবে এমন পাউরুটি কিনুন, যার উপকরণে চিনির পরিমাণ থাকবে সবচেয়ে কম। পাউরুটির উপকরণ তালিকায় ‘কার্বোহাইড্রেট অব হুইচ সুগারস’ লেখাটি খুঁজে বের করুন। অর্থাৎ শর্করার মধ্যে চিনি কতটা। এই পরিমাণ যদি প্রতি ১০০ গ্রাম পাউরুটিতে ৫ গ্রামেরও কম থাকে, তবেই সেই পাউরুটিকে বলা যাবে ‘চিনি কম’।