স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে সাঁতার শেখাতে নদীতে গিয়েছিলেন বাবা। এরপর আর খোঁজ মেলেনি। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে সাঁতার শিখবে। পানিতে যেন ডুবে মরতে না হয়। কিন্তু পানিতে যে বাবা-মেয়ে দুজনেই তলিয়ে যাবেন, তা ভাবেননি কেউ। মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদীতে গত বুধবার সাঁতার শেখাতে গিয়ে নিখোঁজ হন বাবা-মেয়ে। এর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর গত গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মাছ ধরার বড়শি দিয়ে বাবা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তারা হলেন বাবা ব্যবসায়ী মো. মহিদুর রহমান (৫০) এবং মেয়ে বায়রা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফসা আক্তার (১২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মেয়ে রাফসা আক্তারকে সাঁতার শেখাতে বাড়ির পাশের ধলেশ্বরী নদীতে নিয়ে যান বাবা মহিদুর রহমান। সাঁতার শেখার একপর্যায়ে রাফসা পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাবা মহিদুরও নিখোঁজ হন। এতে স্থানীয়দের সঙ্গে খবর পেয়ে সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও আরিচা স্থল কাম নদীবন্দর ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। কিন্তু সারা দিন খোঁজার পরও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বুধবার ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের সঙ্গে স্থানীয়রাও উদ্ধার কাজে অংশ নেন। কিন্তু তাদের পাওয়া যায়নি। পরে গতকাল সকাল থেকে আবার উদ্ধারকাজে নামেন স্থানীয়রা। সকালে রশির মধ্যে মাছ ধরার বড় বড়শি দিয়ে নদীর দুপাশ থেকে টানার একপর্যায়ে মেয়ে রাফসার জামায় বড়শি আটকালে তাকে ওপরে তোলা হয়। তার পাঁচ-ছয় হাত দূরেই মহিদুরের মুখে বড়শি আটকালে তাকেও উদ্ধার করা হয়।