ট্রাম্পের প্রচারে চীনবিরোধী মুলা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে বৈঠক করেন দুজন। নির্বাচনী প্রচারণা ও বিভিন্ন সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এমনকি জেলেনস্কিকে ইতিহাসের সেরা বিক্রয়কর্মী হিসেবেও আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোটি কোটি ডলার সহায়তা বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে ওই মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। এরপরও জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতে ট্রাম্পের আরেকটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে সাক্ষাৎ করেছেন জেলেনস্কি। তাদের সামনে নিজের ‘জয়ের পরিকল্পনা’ তুলে ধরেন তিনি। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে রাশিয়াকে চাপে ফেলে সংকটের কূটনৈতিক সমাধান করা যাবে বলে বিশ্বাস করেন জেলেনস্কি। হোয়াইট হাউজে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে ইউক্রেনের জন্য আরও ৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আগেই জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরে ট্রাম্পের কাছেও নিজের বিজয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন তিনি।

ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তার দাবি, পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করাতে পারবেন তিনি।

এদিকে, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রচারণায় চীনবিরোধী শক্ত অবস্থান নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কমলা হ্যারিসের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কের পর পাঁচটি র‌্যালিতে অংশ নিয়ে ৪০ বার চীনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। মিশিগানে একটি ফোরামে অংশ নিয়ে এক ঘণ্টার কম সময়ে ২৭ বার চীন বিষয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক, সামরিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বৈরিতা বিরাজ করছে। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেলে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা চীনা পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে দেশটিতে চীনের উৎপাদিত গাড়ি বিক্রয় বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেন এই রিপাবলিকান।