মরুভূমির ধূলিকণা থেকে প্রাণের বিস্তার

সাহারা মরুভূমির নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিস্তীর্ণ বালুকাময় এক অঞ্চলের ছবি। তবে এ রাশি রাশি বালুর স্তর হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও মহাসাগরের প্রাণে শক্তি জোগাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মহাসাগরকেন্দ্রিক প্রাণীদের জীবনচক্রে। সম্প্রতি এমনই এক বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন মেরিন সায়েন্স’-এর এক গবেষণায়।

সাহারা মরুভূমি থেকে উড়ে আসা ধূলিকণা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে মিশছে আটলান্টিক মহাসাগরে। সাহারা মরুভূমির এ ধূলিকণায় রয়েছে আয়রন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা কোনো জীবন্ত প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাস, সালোকসংশ্লেষণ ও ডিএনএ সংশ্লেষণের মতো বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। আজকের মহাসাগরের অনেক অংশে আয়রনের সরবরাহ কম। যার ফলে অতিরিক্ত আয়রন যোগ হলে তা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন নামের ক্ষুদ্র উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে, যেটি পরিবেশ থেকে কার্বন-ডাইঅক্সাইড শোষণ করতে ও বৈশ্বিক জলবায়ুকে প্রভাবিত করতে সহায়তা করে। নদী, গলে যাওয়া হিমবাহ, হাইড্রোথার্মাল কার্যকলাপ ও বিশেষ করে বাতাসের মাধ্যমে মহাসাগরে প্রবেশ করতে পারে আয়রন। তবে জ্যান্ত প্রাণীর মাধ্যমে সহজে শোষিত হতে পারে না আয়রনের সব রূপ। জীবন্ত প্রাণীরা যে ধরনের আয়রনের গঠন ব্যবহার করতে পারে, তাকে বলা হয় ‘বায়োরিঅ্যাকটিভ’ আয়রন। গবেষণায় দেখা গেছে, সাহারা মরুভূমির ধূলিকণার আয়রন আটলান্টিক মহাসাগর থেকে যত দূরে ভ্রমণ করে তত বেশি তা ‘বায়োরিঅ্যাকটিভ’ হয়ে ওঠে। সাহারা মরুভূমির ধূলিকণা পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তন আয়রনকে মহাসাগরের প্রাণের জন্য আরও ব্যবহার উপযোগী করে তোলে।

সাহারা মরুভূমির থেকে আসা এ ধূলিকণা ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা বোঝার চেষ্টা করেছেন ‘ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটি’র সহযোগী অধ্যাপক ড. জেরেমি ওয়েনস ও তার গবেষণা দল। এজন্য আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশ থেকে ড্রিল কোর বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা, যা সংগ্রহ করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ওশান ডিসকভারি প্রোগ্রামের মাধ্যমে। এসব কোরে পলির স্তর রয়েছে, যেগুলো তৈরি হয়েছে গত ১ লাখ ২ হাজার বছর ধরে, যা মহাসাগরের তলদেশের অতীতের পরিবেশগত অবস্থার রেকর্ড সরবরাহ করে।