আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি চীন। চলতি মাসের শুরুতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া ফোরাম অন চীন-আফ্রিকা কো-অপারেশনের সম্মেলনে মহাদেশটির সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন করে ৫১ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। অভিন্ন ভবিষ্যৎকে মাথায় রেখে উচ্চস্তরের চীন-আফ্রিকা সম্প্রদায় গড়ে তোলার জন্য আফ্রিকায় অবকাঠামো, কৃষি, খনি এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে চীনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেইজিংয়ের এসব পদক্ষেপকে মহাদেশটিতে চীনের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তবে সে পথে বেইজিংয়ের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তুরস্ক। আফ্রিকা মহাদেশে কৌশলগত অবস্থান বাড়াতে সম্প্রতি বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তুরস্ক। সোমালিয়ায় তেলের খনি সন্ধান ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেখানে একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র চালুর চেষ্টা করছে আঙ্কারা।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৯৯৮ সালে আফ্রিকা উদ্যোগ নীতি গ্রহণ করে তুরস্ক। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তিগুলো দৃঢ় করতে থাকে দেশটি। গত দুই দশকে আফ্রিকার দেশগুলোতে তুরস্কের দূতাবাসের সংখ্যা বেড়েছে দাঁড়ায় ৪৪-এ। সেই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণও। তরুণ প্রজন্ম, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক লাভের কারণে আফ্রিকা মহাদেশ তুরস্কের ব্যবসায়ীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। তবে মহাদেশটির বাজারে তুরস্ককে লড়াই করতে হচ্ছে রাশিয়া, চীন ও গালফ উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোর সঙ্গে।
নিজেদের সীমান্তের বাইরে তুরস্কের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে কয়েকটি চুক্তির পর তুরস্কের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে মোগাদিসু। গত জুলাই মাসে তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রী আলপারসলান বায়রাকতার সোমালিয়ার সঙ্গে একটি তথাকথিত হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উৎপাদন চুক্তি সই করেন, যা আঙ্কারাকে সোমালি উপকূলের তিনটি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের একচেটিয়া অধিকার প্রদান করে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ অথবা অক্টোবরের শুরুর দিকে অঞ্চলটিতে একটি অনুসন্ধান জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তুরস্কের। সোমালিয়ায় কমপক্ষে তিন হাজার কোটি ব্যারেল তেল ও গ্যাসের মজুদ রয়েছে। এছাড়াও তুরস্ক সাব-সাহারান আফ্রিকায় চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে।