টাঙ্গাইলে জামায়াত আমির

রোডম্যাপ দিয়েছি আমরা ব্যর্থ কোনো নির্বাচন চাচ্ছি না

জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা সরকারকে দুটি রোডম্যাপ দিয়েছি। প্রথমটি হচ্ছে সংস্কার। পরেরটি নির্বাচন। প্রথমটা সফল না হলে দ্বিতীয়টা ব্যর্থ হবে। আমরা ব্যর্থ কোনো নির্বাচন চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।’

গত শনিবার রাতে টাঙ্গাইলে নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিম ছারোয়ার নির্জনের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার পতনের আন্দোলন পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। এটা মূলত ছিল কোটাকেন্দ্রিক ছাত্রদের অধিকার আদায়ের। সরকার তাদের যৌক্তিক দাবি না মেনে উল্টো লাগামহীন কথা ও কা-জ্ঞানহীন আচরণ করেছে। পরে এক দফায় পরিণতি হয়েছে। সরকার শুরুতে দাবি মানলে এমনটি হতো না।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘তানজিম হত্যাকা-ের এক মাস আগে এই সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়েছে। জেল থেকে বের হয়েই তারা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলল। একইভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে বের হয়েছে। আরও অনেকেই বের হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে যদি কোনো যোগসূত্র থাকে, অবশ্যই তাতে দুর্বলতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। সরকারকে কঠোর হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশে আমাদের সবার, কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়। দেশ ১৮ কোটি মানুষের। ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন, তাই করতে হবে।’

শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগ ও রাজনীতি বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েছেন, এটা আমি বলতে চাই না। কারণ একটা রাজনীতিবিদের বিষয়ে এ কথা বললে আমার নিজেরই লজ্জা লাগে। যেহেতু দেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে না। তাই তার রাজনীতি করার কোনো মানে হয় না। তিনি গিয়েছেন জাতি মুক্ত হয়েছে। জাতিকে শান্তিতে থাকতে দিন। তিনি যদি অপরাধী হন, তাহলে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম খান, জেলা জামাতের নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আবদুর রাজ্জাক, জেলা সেক্রেটারি হুমায়ুন কবীর, জেলা সহকারী সেক্রেটারি হোসনী মোবারক বাবুল, শফিকুল ইসলাম খানসহ দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।