নাসরাল্লাহর হত্যাকান্ড নিয়ে আরব বিশ্বে বিভক্তি

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা ও তাদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। তেল আবিবের হামলায় গত শুক্রবার নিহত হন গোষ্ঠীটির প্রধান সাঈদ হাসান নাসরাল্লাহ। ২০০৬ সালের ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর এবারই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র সংগঠনটি। লেবাননের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বেশ প্রভাব রয়েছে হিজবুল্লাহর। অঞ্চলটিতে আরও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরানের সমর্থন পেলেও, শক্তি-সামর্থ্যরে বিচারে সবচেয়ে অগ্রসরমান হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির প্রধানের নিহতের খবরে তাই বিভক্তি দেখা দিয়েছে আরব দেশগুলোতে।

সশস্ত্র কার্যক্রম ও ইরানের সঙ্গে সখ্যের কারণে অনেক মুসলিম দেশের কাছেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিত হিজবুল্লাহ। ২০১৬ সালে হিবজুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বৃহত্তর আরব লীগ। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে তা প্রত্যাহার করে নেয় আরব লিগ। ৩২ বছর ধরে শক্তিশালী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নেতৃত্ব দিয়েছেন নাসরাল্লাহ। তার মৃত্যুর পর নীরব অবস্থান দেখিয়েছে অনেক সুন্নি নেতৃত্বাধীন দেশ।

গত রবিবার রাতে এক বিবৃতি সৌদি আরব জানায়, গুরুতর উদ্বেগ নিয়ে লেবাননের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান জানানো হলেও নাসরাল্লাহর কথা উল্লেখ করেনি সুন্নিশাসিত সৌদি আরব। সুন্নিপ্রধান কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন নাসরাল্লাহর হত্যাকা- নিয়ে পুরোপুরি নীরব থেকেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রেখে আসছে।

লেবাননেন সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। লেবাননে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘনকে প্রত্যাখ্যান করলেও নাসরাল্লাহর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি দেশটি। অতীতে ইরান এবং তার মিত্রদের সমালোচনা করলেও ইরানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে মিশর।

তবে নাসরাল্লাহ হত্যার পর ইরানে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ইরাক ও সিরিয়ায় পালিত হয়েছে তিন দিনের শোক। ওমানের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আহমদ বিন হামাদ আল-খলিলি হিজবুল্লাহ প্রধানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তবে আরব বিশ্বের অনেক দেশই গাজায় সামরিক অভিযান এবং সম্প্রতি লেবাননে সংঘাত বাড়ায় নাসরাল্লাহ এবং ইসরায়েল উভয়ের সমালোচনা করেছে।