কলকাতায় পালিয়ে গেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী!

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ কয়েকজন নেতা পালিয়ে গেছেন কলকাতায়। কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির মধ্যে তারা কীভাবে গেলেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। গতকাল বেসরকারি একটি টেলিভিশনও এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। আসাদুজ্জামান খান, সাবেক সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, অপু উকিল ও হাজী সেলিমের এক ছেলেসহ বেশ কয়েকজন নেতা কলকাতায় আত্মগোপন করে আছেন।

নাম প্রকাশ না করে পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই আওয়ামী লীগ নেতারা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ পালাতে পেরেছেন আবার কেউ যেতে পারেননি। নেতাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও পালিয়ে যাওয়ার তালিকায় আছেন। কিছুদিন আগে আমরা নিশ্চিত হয়েছি গত সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ কয়েকজন নেতা কলকাতায় পালিয়ে গেছেন। তাদের ধরতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছিলাম। কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে তারা দেশ ছেড়ে পালালেন সেই তথ্য উদঘাটন করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন বানচাল করতে আসাদুজ্জামান খান ছিলেন বেশি বেপরোয়া। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক হত্যা মামলা হয়েছে। আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সাংসদ অসীম কুমার উকিল, অপু উকিলসহ বেশ কয়েকজন নেতাও রয়েছেন কলকাতায়। তারা প্রায়ই  কলকাতার ইকো পার্ক ও সায়েন্স সিটিতে ঘুরতে যান। গত শনিবার ইকো পার্কে তারা আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে একটি টিভি চ্যানেলও নিশ্চিত করেছে। ইকো পার্কে রাতে সাধারণত কলকাতার স্থানীয়রা আড্ডা দেওয়ার সুযোগ পান। সঙ্গে থাকে ডিনারেরও ব্যবস্থা। নিরাপদ ভেবে সেখানে বসেই আড্ডা দিচ্ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্য নেতারা। তবে তাদের এ আড্ডা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছু বাংলাদেশি জড়ো হওয়ায় দ্রুতই সটকে পড়েন তারা। তবে ভিডিও করতে বাধা আসে কিছু অপরিচিত মানুষের কাছ থেকেও। কিছুদিন আগে তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

জানা গেছে, শেখ হাসিনার পতনের পর তার সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এমপিদের একের পর এক দুর্নীতির খবর সামনে আসছে। শুধু মন্ত্রী-এমপিই না তাদের পরিবারের অনেক সদস্যেরও দুর্নীতির কথা সামনে আসছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান জ্যোতির দুর্নীতির খবর বেরিয়েছে। তাছাড়া আসাদুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি বিশাল সিন্ডিকেট নানাভাবে দুর্নীতিও করেছেন। বিশেষ করে তার ছেলে শাফি মোদাচ্ছেরের দুর্নীতি ছিল বেপরোয়া। মেসার্স তিতাস বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নামে একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বানিয়ে রাখেন আসাদুজ্জামান খান। মূলত এই প্রতিষ্ঠানের নামেই চলত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি। টেকনাফের মিঠাপানির ছড়া ১ নম্বর প্লটে ৫ দশমিক ৫০৬৪ একর জমি কেনা হয় ওই প্রতিষ্ঠানের নামে। পুলিশে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যেও ছিলেন বেপরোয়া। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অমোচনীয় কালি কিনতে শুধু ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় করে শাফি মোদাচ্ছের সিন্ডিকেট। এছাড়া আরও ৬ কোটি টাকার অমোচনীয় কালি  কেনে নির্বাচন কমিশন। যার টেন্ডার বাগিয়ে নেয় শাফি ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলমের আত্মীয়ের যৌথ সিন্ডিকেট। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে শুধু রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকেই প্রতিদিন দেড় কোটি টাকার চাঁদা ওঠানো হতো। ফুটপাতে ব্যবসা, বাজার, মাদক কারবার ও আবাসিক হোটেল থেকেও ওঠানো হতো চাঁদা।