সুদের ভয়াবহতা

রিবা আরবি শব্দ। এর অর্থ সুদ। পরিভাষায় সুদ বলতে সেই অতিরিক্ত অর্থকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ প্রদান করা হয় এবং মূলধনের অতিরিক্ত হিসেবে ফেরত নেওয়া হয়। ইসলামি শরিয়তে সুদকে কঠিনভাবে নিষেধে করা হয়েছে।

সুদের প্রকারভেদ : সুদ মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। এক. রিবান নাসিয়া, তথা ঋণের ওপর নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ, যা নির্দিষ্ট সময় শেষে মূল ঋণের পাশাপাশি ফেরত নেওয়া হয়। দুই. রিবাল ফজল, তথা পণ্য বা সম্পদ বিনিময়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য দাবি করা, যখন একই ধরনের পণ্য বিনিময় করা হয়।

সুদের বিধান : ইসলামে সুদ হারাম। কারণ এটি অন্যায়ভাবে একজন ব্যক্তির সম্পদ বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। কুরআনে সুদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত উল্লেখ করা হলো, যেখানে সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেছেন, ‘হে ইমানদাররা! আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা ছেড়ে দাও।’ (সুরা বাকারা ২৭৮) আল্লাহতায়ালা অন্যত্র বলেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ক্রমবর্ধমান হারে (দ্বিগুণ-চতুর্গুণ বা চক্রবৃদ্ধি হারে) সুদ খেও না। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান ১৩০)

সুদের ভয়াবহতা : সুদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা মুমিন হও। কিন্তু যদি তোমরা তা না করো তাহলে আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা নাও। আর যদি তোমরা তাওবা করো তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা কারও ওপর অত্যাচার করবে না এবং নিজেরাও অত্যাচারিত হবে না।’ (সুরা বাকারা ২৭৮-২৭৯)

সুদি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি মারা গেলে কেয়ামত দিবসে তাকে এমনভাবে উঠানো হবে যেন শয়তান স্পর্শ করে তাকে পাগল বানিয়ে দিয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়।’ (সুরা বাকারা ২৭৫)

হাশরের মাঠে সুদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গলা চেপে ধরে উঠানো হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, সুদ গ্রহণকারীকে কেয়ামত দিবসে এমনভাবে উঠানো হবে যেন সে পাগল এবং গলা চেপে ধরা হয়েছে। তাকে বলা হবে, তুমি তোমার যুদ্ধের সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করো আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য। (উমদাতুত তাফসির ১/৩৩০)

সুদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির কারণে এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। আগের মতো আর ফসল ফলে না এবং সময় মতো বৃষ্টি হয় না। যে এলাকায় সুদ ও ব্যভিচার ব্যাপক হয়ে যায়, সেই এলাকায় আল্লাহতায়ালার গজব অবতীর্ণ হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন কোনো এলাকায় ব্যভিচার ও সুদের লেনদেন ব্যাপক ও অতি সহজ হয়ে যায়, তাহলে তারা যেন নিজেদের ওপর আল্লাহর আজাবকে বৈধ করে নিল। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব)

সুদ খাওয়া মানে আপন মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, সুদের গুনাহর সত্তরটি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তর হলো আপন মায়ের জিনা-ব্যভিচার করা। (ইবনে মাজাহ) আল্লাহতায়ালা আমাদের সুদের মতো ভয়াবহ ও জঘন্যতম অপরাধ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।