ঢাবি শিবিরের ১৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার শিবিরের ঢাবি শাখার ফেসবুক পেজ থেকে এই কমিটি প্রকাশ করা হয়। সভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম ও সেক্রেটারি এস এম ফরহাদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর ঢাবি শিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হলো।

কমিটি প্রকাশের পরই শুরু হয়েছে পদধারীদের নিয়ে নানা আলোচনা। একে একে সামনে আসতে শুরু করে কমিটিতে থাকা শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রাতিষ্ঠানিক এবং এর বাইরের দক্ষতা-যোগ্যতার কথা। শিবিরসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতাই ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, এর মধ্যে রয়েছেন লেখক এবং গোল্ডমেডেলিস্টও। সভাপতির দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. আবু সাদিক কায়েম স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ফলাফলে নিজ বিভাগের মধ্যে তৃতীয় হয়েছিলেন। স্নাতকে তার সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ৭৮।

সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এস এম ফরহাদ অনার্সে স্নাতকে ৩ দশমিক ৬৫ সিজিপিএ এবং স্নাতকোত্তর ফলাফলে ৩ দশমিক ৭৫ সিজিপিএ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। এর পাশাপাশি তিনি জসীম উদদীন হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ও সমাজকল্যাণ ডিপার্টমেন্টের ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন খান নিজ বিভাগ লোকপ্রশাসন ২০১৮-১৯ সেশনের সেশনের ছাত্র। অনার্সে তার সিজিপিএ ৩ দশমিক ৯৩। এককভাবে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। আর মাস্টার্সের প্রথম সেমিস্টারে সিজিপিএ-৪-এ ৪ পেয়েও প্রথম হন তিনি। কমিটিতে থাকা ছাত্র আন্দোলন ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম স্নাতকের ফলে বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে গোল্ড মেডেল পুরস্কার অর্জন করেছেন। ২০১৮-১৯ সেশনের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়ন করছেন। প্রথম সেমিস্টারে তার ফল সিজিপিএ-৪ এর মধ্যে ৪ রয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির স্কিল ডেভলপমেন্ট সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আমীন ২০১৯-২০ সেশনে ভর্তি পরীক্ষায় ডি ইউনিট থেকে প্রথম হয়েছিল। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারে অধ্যয়ন করছেন। বিভাগের ফলাফলে প্রথম দিকে রয়েছে বলে জানিয়েছে শিবিরের একটি সূত্র। তার সিজিপিএ ৩ দশমিক ৯২ বলে জানা গেছে। এদিকে চার মামলা মাথায় নিয়েও অনার্স ও মাস্টার্সে অসাধারণ ফল করেছেন কমিটির বায়তুল মাল (অর্থ) সম্পাদক আলাউদ্দিন আবিদ।

কমিটির সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম নূর পরিচিত লেখক হিসেবে। প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের হোসাইন আহমাদ জুবায়ের এবং আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হয়েছেন আইন বিভাগের রিয়াজুল মিয়া। অফিস সম্পাদক পদে আছেন ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইমরান হোসাইন, দাওয়াহ ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক আরবি বিভাগের হামিদুর রশিদ জামিল, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া সম্পাদক ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের মো. ইকবাল হায়দার, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের মো. আনিছ মাহমুদ ছাকিব এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের হাসান মোহাম্মদ ইয়াসির ব্যবসায় শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রকাশের বিষয়ে শিবিরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, আমাদের সংগঠনের গঠনতন্ত্রে কোনো নির্ধারিত পদসংখ্যা নেই। আমাদের কিছু বিভাগ রয়েছে। সেগুলো পরিচালনার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেখানোর জন্য কোনো পদ দেওয়া হয় না। ফলে প্রতি বছর প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখানে দেখানোর জন্য কোনো সহসভাপতি, সহ-সম্পাদক পদ নেই। প্রতি বছরই পদ সংখ্যা কাছাকাছি থাকে।

কমিটির বিষয়ে ঢাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, অন্যান্য সংগঠনের মতো করে আমাদের কমিটি হয় না। এজন্য আমাদের কমিটিতে সদস্য সংখ্যা কম মনে হতে পারে। ছাত্রদের নীতি নৈতিকতা, স্কিল ডেভেলপমেন্টসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমাদের বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। সেই বিভাগগুলো আমাদের কার্যক্রমগুলো তদারকি করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কমিটিটি জানুয়ারিতেই গঠিত হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে আমরা তা পাবলিকলি প্রকাশ করতে পারিনি। ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ফলে দেশ ফ্যাসিবাদের মুক্ত হয়েছে এবং আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পেয়েছি।