চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও জুতার মালা পরিয়ে উল্লাস করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে জানা গেছে। ‘ভুক্তভোগীকে’ গত ২৬ আগস্ট চকবাজার থানায় হওয়া এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নগর ছাত্রলীগের এক নেতা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিকালে নগরীর চকবাজার থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার আবদুল্লাহ আল সাইমন (২৭) চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।
তিনি ২০২০ সালে ঘোষিত কমিটিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সাইমন লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর ছাত্রলীগের এক নেতা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার বিকালে অসুস্থ মাকে দেখতে সাইমন চট্টগ্রাম শহর থেকে গ্রামের বাড়ি যান। এ সময় ছাত্রশিবিরের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করতে করতে সিএনজি অটোরিকশায় চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসে। রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম কলেজে এনে আরেক দফা মারধর করা হয় সাইমনকে। পরে আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে তারা। এর আগে লোহাগাড়ায় দফায় দফায় মারধরের পর জুতার মালা পরিয়ে সাইমনকে রাস্তায় ঘোরানো হয়।
তবে ভুুক্তভোগীর বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি আসলে তাকে এলাকার কিছু ছেলে বেধড়ক মারধর করে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। এর আগে তাকে জুতার মালা পরিয়ে লোহাগাড়ায় গ্রামের রাস্তায় ঘোরানো হয়। পরে শুনেছি রাত ৯টার দিকে আমার ছেলেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। কারা আমার ছেলেকে মারধর করেছে তাদের নাম সবাই জানে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে লোহাগাড়া সদরে ছাত্রলীগ নেতা সাইমনকে লাঠিসোঁটা হাতে ঘিরে ফেলে একদল যুবক। ‘ছাত্রলীগ কেন করেছিস’ বলেই সাইমনকে তারা মারধর শুরু করে। লাঠি দিয়ে মারতে মারতে তার কাছে ওই যুবকরা জানতে চায়, ‘কারা আন্দোলনের মিছিলে গুলি করেছিল? কারা নির্দেশ দিয়েছে?’
এ সময় সাইমন আর্তনাদ করে বলতে থাকেন, ‘মসজিদ ধরে শপথ করে বলতে পারি, আমি কোনো কিছু করিনি। আমি কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত নই।’ সাইমনকে মারধরের পর জুতার মালা পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে গতকাল রাতেই আপলোড করেন নগর ছাত্রলীগ এক নেতা। পরে এটি ভাইরাল হয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে চকবাজার থানার ওসি জাহিদুল কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা সাইমনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। গত ২৬ আগস্ট চকবাজার থানায় করা এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাইমনকে সোপর্দ করে। তবে থানায় সোপর্দ করার আগে দফায় দফায় মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাইমন।’