যে সুরা পড়লে রিজিক বাড়ে

কোরআন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। মহান আল্লাহ হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে এই গ্রন্থকে ২৩ বছরে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন। এই গ্রন্থে রয়েছে পৃথিবীবাসীর হেদায়েতের দিকনির্দেশনা। পরকালে মুক্তির জন্য কোরআনের বিধান যেমন অবশ্য পালনীয়, তেমনি এর তেলাওয়াতেও রয়েছে অনেক সওয়াব। তার মধ্যে আবার কোরআনের বিশেষ বিশেষ কিছু সুরা বা সুরার অংশ আছে, যেগুলোর তেলাওয়াত আরও বেশি ফজিলতপূর্ণ। তেমনি কোরআনের ফজিলতপূর্ণ একটি সুরা হলো ওয়াকিয়া। সুরাটির প্রথম আয়াতে উল্লিখিত ‘ওয়াকিয়া’ শব্দ থেকে এ সুরার নাম গৃহীত হয়েছে। ‘ওয়াকিয়া’ শব্দের মূল অর্থ ঘটনা, এখানে কেয়ামত বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা, সাধারণ মুমিন ও কাফেরদের কী অবস্থা হবে, সেটার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জান্নাতের নেয়ামত ও জাহান্নামের শাস্তির বিবরণও রয়েছে এ সুরায়। সুরা ওয়াকিয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এ সুরা পাঠ করলে রিজিক বৃদ্ধি পায় এবং অভাব দূর হয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করবে, সে কখনো অভাবে পড়বে না।’ (বায়হাকি)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) যখন মৃত্যু শয্যায়, তখন ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমান (রা.) তাকে দেখতে গিয়ে বলেন, আমি সরকারি কোষাগার থেকে ভাতার ব্যবস্থা করে দেব, যা আপনার এবং আপনার মেয়েদের উপকারে আসবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, প্রয়োজন নেই। আমি আমার মেয়েদের সুরা ওয়াকিয়া শিক্ষা দিয়েছি। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করে, সে কখনো অভাবে পড়বে না।