গাজীপুরে জামায়াত আমির

ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে ভাগ করার সুযোগ দেব না

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দলের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে, গোষ্ঠীর ভিত্তিতে আমরা আর কাউকে জাতিকে ভাগ করার সুযোগ দেব না। জাতিকে তারাই ভাগ করে যারা জাতির দুশমন। জাতির যারা বন্ধু তারা কখনোই জাতিকে বিভক্ত করতে পারে না। এক্ষেত্রে আমরা আপসহীন।’

গতকাল শুক্রবার সকালে গাজীপুর জেলা শহরের রাজবাড়ী ময়দানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে এক জায়গায় করতে হবে। বিশ^কে জানান দিতে হবে, দেশ এবং জাতির স্বার্থে আমাদের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। যত বিভাজন রেখা তৈরি করা হয়েছিল সবগুলোকে আমরা পায়ের নিচে ফেলে দিয়েছি।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা শহীদদের কোনো দলীয় ভিত্তিতে ভাগ করতে চাই না। এই শহীদরা জাতির সম্পদ, ইজ্জতের চূড়ান্ত সীমায় আমরা তাদের রাখতে চাই, দেখতে চাই। এতে কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে। যারা লড়াই করে বুকের রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে এ সমাজকে মুক্তি এনে দিয়ে গেছেন এ পরিবারগুলোর প্রতি সরকারকে অবশ্যই নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতিকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতির অংশ হিসেবে আমরা এটুকু দায়িত্ব পালনের চেষ্ট করছি।

তিনি শহীদ পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে গিয়েছি। আপনাদের অনুগ্রহ করার জন্য নয়। বরং আপনাদের দোয়া নিয়ে আমাদের দিলটা, বুকটা শীতল করার জন্য। আপনারা আমাদের অহংকারের পাত্র। আমাদের মর্যাদার পাত্র। আমাদের সম্মানের পাত্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাব তাদের সঠিক স্বীকৃতিটা যেন দেওয়া হয়। পাঠ্যপুস্তক কারিকুলামে আগামী দিনের নাগরিকরা যেন জানে তাদেরও আবু সাঈদরা ছিল। সারা বাংলার শহীদরা ছিল। প্রতিটা শহীদ পরিবার থেকে কমপক্ষে একজনকে যেন সরকার সম্মানজনক চাকরি তাদের হাতে তুলে দেয়। লড়াই করে যারা আহত হয়েছে পঙ্গু হয়েছে তাদেরও যেন সম্মানজনক চাকরি দেওয়া হয়।’ 

জামায়াতের আমির বলেন, ‘যারা সমাজের দুশমন তারাই শিল্প ধ্বংস করতে চায়। তারা শ্রমিকদের আবেগকে উসকে দিয়ে রাস্তায় নামায়। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা তাদের জায়গায় ব্যবসা করবেন। কোনো দুর্বৃত্ত চাঁদাবাজের সাহস হবে না তার কাছে গিয়ে চাঁদা চাওয়ার। যাকে আল্লাহতায়ালা গরিবি হালতে রেখেছেন প্রয়োজনে সে ভিক্ষা করবে কিন্তু তাকে চাঁদা দিতে হবে না।

আমরা এমন কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আগামীতে দেখতে চাই না যাদের বাধ্য করা হবে রাষ্ট্র, জনগণ বাদ দিয়ে গোষ্ঠীর পূজা করবে। এমন একটা দেশ আমাদের সবার কাম্য। সে দেশটা আমাদেরই গড়তে হবে ইনশাআল্লাহ।’

সমাবেশ শুরুর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের ও পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের হাতে উপহার তুলে দেন।

এদিকে জামায়াতের ইসলামীর এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে গাজীপুরে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, ট্রাক ও পিকআপে করে শত শত নেতাকর্মী শহরের রাজবাড়ী ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টার আগেই রাজবাড়ী ময়দান হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে মতবিনিময় সভাটি বিরাট সমাবেশে রূপ নেয়। এটি ছিল জামায়াতে ইসলামীর স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সমাবেশ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি অধ্যাপক মুহা. জামাল উদদীনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ।

বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান, ঢাকা উত্তর অঞ্চল টিমের সদস্য আবুল হাসেম খান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মুহাম্মদ খায়রুল হাসান, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সালাউদ্দিন আইউবী প্রমুখ।